আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর আওতায় প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পরেছে ৫৮ লক্ষ নাম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনের খসড়া তালিকা (CEO West Bengal) অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন- Humayun Kabir: সাসপেন্ড মুর্শিদাবাদের বিধায়ক
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে–
| ১. ২৪ লক্ষ ভোটারকে ‘মৃত’, ২. ১৯ লক্ষকে ‘স্থানান্তরিত’, ৩. ১২ লক্ষকে ‘নিখোঁজ’, ৪. ১.৩ লক্ষ ‘ডুপ্লিকেট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে |
SIR-এর প্রথম পর্যায় শেষ-
এই খসড়া তালিকা প্রকাশের (CEO West Bengal) মধ্য দিয়ে SIR-এর প্রথম পর্যায় শেষ হয়েছে। যাঁদের নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে, তাঁরা আপত্তি জানিয়ে সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। সমস্ত আপত্তি নিষ্পত্তির পর আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, পশ্চিমবঙ্গে শেষবার SIR হয়েছিল ২০০২ সালে।
এই তালিকা (CEO West Bengal) প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়াকে ‘চরম অবিচার’ বলে দাবি করেন। সংসদ ভবনে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, “এটা বিজেপির চক্রান্ত। উদ্দেশ্য হল বৈধ ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া। আমরা ভোটার সহায়তা বুথ খুলেছি, মানুষকে সাহায্য করব যাতে তাঁদের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।”
SIR-বিরোধিতায় মুখ্যমন্ত্রী-
এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় SIR প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে লক্ষ লক্ষ যোগ্য ভোটারের নাম কাটতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে এক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী নাম কাটার প্রতিবাদে রাস্তায় নামার ডাক দেন। তিনি বলেন, “মা-বোনদের অধিকার কেড়ে নেবে? নাম কাটা হলে চুপ করে থাকবেন না। রান্নাঘরের হাতিয়ার আছে, শক্তি আছে। মেয়েরাই সামনে লড়াই করবে, পুরুষরা থাকবে পিছনে।”
অভিযোগ খারিজ বিরোধীদলের-
অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পাচ্ছেন ক্ষমতা হারানোর। মৃত, ভুয়ো ও অবৈধ ভোটারদের নাম কাটছে বলেই তৃণমূল এত চিৎকার করছে। বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের ভোটের ব্যবধান মাত্র ২২ লক্ষ।” এর আগে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে কয়েকজনের আত্মহত্যার অভিযোগ উঠলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তখন দলটি দাবি করেছিল, ‘নির্বাচন কমিশনের হাতে রক্ত লেগে আছে’। রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এই বিতর্ক আরও তীব্র হবে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।
