From Control to Chaos and Back: শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা পেরিয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল ভারত

Published on: January 12, 2026

Join WhatsApp

Join Now

ভারতের জয়, কিন্তু নাটক ছাড়া নয়—কোটাম্বি স্টেডিয়ামে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেই (From Control to Chaos and Back) দর্শকদের উপহার মিলল রুদ্ধশ্বাস ফিনিশের। ৩০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত ৩০৬/৬ তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল চার উইকেটে। স্কোরবোর্ডে সংখ্যার হিসাব যতটা সহজ দেখায়, মাঠের বাস্তব চিত্রটা ততটাই ওঠানামায় ভরা।

কোহলির নিয়ন্ত্রণ, তারপর হঠাৎ ধাক্কা-

শেষ চারটি ওডিআইতে ৭৪, ১৩৫, ১০২ ও ৬৫—এই ধারাবাহিকতা যেন আগেই ঘোষণা করেছিল, বিরাট কোহলি এখন আর শতরান না করে মাঠ ছাড়তে রাজি নন। এই ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি—৯৩ রানে দাঁড়িয়ে পুরো রান তাড়া নিজের কব্জায় নিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ Top 5 Carmakers in India: ভারতের শীর্ষ ৫ গাড়ি প্রস্তুতকারক বাজারে চমক

শুরুর দিকে ছিলেন আক্রমণাত্মক। পেসারদের বিরুদ্ধে এগিয়ে এসে খেলেছেন, প্রথম ২০ বলে ছয়টি চার মেরেছেন। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের (From Control to Chaos and Back) গতি নিজের মতো করে সাজিয়েছেন—একেবারে অভিজ্ঞ মাঝমাঠের পরিচালক যেমন করে খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে।

মিডল ওভারগুলোতে ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশনকে কাজে লাগিয়ে কোহলি যেভাবে রান বের করলেন, তা ছিল চোখে পড়ার মতো। ৭৫ থেকে ৭৯-এ পৌঁছানোর শটটাই তার প্রমাণ—স্টান্স বদলে, ফিল্ড বুঝে, কব্জির নিখুঁত ব্যবহারে বল পাঠালেন ফাঁকা স্কোয়ার লেগ বাউন্ডারিতে।

শুভমান গিলের সঙ্গে ১১৮ রানের ওপেনিং জুটি, এরপর শ্রেয়াস আইয়ারের সঙ্গে ৭৭ রানের পার্টনারশিপ—সব মিলিয়ে ভারত (From Control to Chaos and Back) তখন একেবারে নিশ্চিন্ত জয়ের পথে। কিন্তু ঠিক তখনই দৃশ্যপটে এলেন এক পরিচিত ‘খলনায়ক’—কাইল জেমিসন।

সাত বলেই ম্যাচের মোড়-

টেস্ট ক্রিকেটে আগেও কোহলি-ভারতের মাথাব্যথার কারণ হয়েছেন জেমিসন। এবারও ব্যতিক্রম হলো না। মাত্র সাত বলের ব্যবধানে তিনি ফিরিয়ে দিলেন কোহলি, রবীন্দ্র জাডেজা ও সেট হয়ে যাওয়া শ্রেয়াস আইয়ারকে।

৯৩ রানে কোহলি আউট হলেন মিড-অফের ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে—উচ্চতা পেল না শট (From Control to Chaos and Back)। এরপর ক্রস-সিম ডেলিভারিতে জাডেজা ও আইয়ার—দু’জনই এমন শটে আউট হলেন, যেগুলো পুরোপুরি রক্ষণাত্মকও নয়, আবার আক্রমণাত্মকও নয়।

হঠাৎ করেই ম্যাচ জমে উঠল। কয়েক মিনিট আগেও যেখানে জয় প্রায় নিশ্চিত, সেখানে ভারতের দরকার পড়ল ৫৩ বলে ৫৯ রান, হাতে পাঁচ উইকেট। তার ওপর ওয়াশিংটন সুন্দর সাইড স্ট্রেইনে ভুগছেন, দৌড়াতে পারছেন না। নতুন ব্যাটারদের একজন লোয়ার অর্ডারের হর্ষিত রানা।

রানা ও ওয়াশিংটনের লড়াই, রাহুলের ফিনিশ-

চাপের মুখে রানা কিন্তু ভয় পেলেন না। ড্যারিল মিচেলের হাতে মিডউইকেটে (From Control to Chaos and Back) একটি ক্যাচ পড়ে যাওয়ার পর তিনি খেললেন সাহসী ২৩ বলে ২৯ রানের ইনিংস। কেএল রাহুলের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ৩৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ আবার ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দিলেন।

রানা আউট হওয়ার সময়ও ম্যাচ শেষ নয়—২২ বলে তখনও ২২ রান দরকার। হাঁটতে হাঁটতে রান নেওয়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে রাহুল একের পর এক সিঙ্গল নিয়ে চাপ ধরে রাখলেন। শেষ পর্যন্ত রাহুলই ম্যাচে ইতি টানলেন—ডেবিউট্যান্ট ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ককে পরপর ৪, ৪, ৬ মেরে ছয় বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করলেন।

রানা ও ওয়াশিংটনের লড়াই, রাহুলের ফিনিশ-

এর আগে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শুরু হয়েছিল আশাব্যঞ্জকভাবে। ডেভন কনওয়ে ও হেনরি নিকলস প্রথম উইকেটে ১১৭ রান যোগ করেন। কিন্তু ভারতীয় (From Control to Chaos and Back) বোলাররা কখনও রান রেট হাতছাড়া হতে দেননি।

এরপর হর্ষিত রানা একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন—স্লোয়ার ইয়র্কারে নিকলসকে বোকা বানিয়ে আউট, আর ইনসুইং বলে কনওয়েকে ক্লিন বোল্ড। মাঝের ওভারগুলোতে একের পর এক ভালো জুটি তৈরি হলেও, ঠিক জমে ওঠার আগেই ভেঙে যায়।

মিচেল অবশ্য হাল ছাড়েননি। কম বাউন্ডারি মেরেও দ্রুত হাফ-সেঞ্চুরি (From Control to Chaos and Back), শেষদিকে প্রসিধ কৃষ্ণার ওভারে ৪-৬-৪—স্কুপ শটটাই ছিল চোখধাঁধানো। কিন্তু পরের বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনিও।

রানা ও ওয়াশিংটনের লড়াই, রাহুলের ফিনিশ-

ভারত যে অনেকটা সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল, তা পরিষ্কার করে দেয় দু’টি বিষয়—নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞতাহীন বোলিং আক্রমণ এবং তাদের ৩০০ রানের স্কোর (From Control to Chaos and Back) আসলে যথেষ্ট না হওয়া।

কিন্তু তবুও, কোহলির দাপট, জেমিসনের ধাক্কা আর রাহুলের ঠান্ডা মাথার ফিনিশ—সব মিলিয়ে কোটাম্বি স্টেডিয়ামের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ দর্শকদের দিল ঠিক যেটা তারা চেয়েছিল: টানটান উত্তেজনা আর স্মরণীয় সমাপ্তি।