weather : “ওড়িশা হয়ে স্থলভাগে নিম্নচাপ , পুজোর আনন্দে বৃষ্টির ভেজা ছোঁয়া “

Published on: September 27, 2025

Join WhatsApp

Join Now

২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপটি ভোর সাড়ে ৪টায় দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল পার করে স্থলভাগে প্রবেশ করেছে। গতিবেগ প্রায় ১২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা থাকতে দেখা যায়; আগামী ২৪ ঘণ্টায় এটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ছত্তিশগড়ের নিকট এসে ধীরে ধীরে শক্তি হারাতে পারে বলে হাওয়া অফিস জানিয়েছে।পথ ও অবস্থান হাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক বর্ণনা অনুযায়ী নিম্নচাপটি বর্তমানে ওড়িশার দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থান করছে ।

গোপালপুর থেকে প্রায় ১০ কিমি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিমে, পুরী থেকে ১২০ কিমি পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং ফুলবনি থেকে প্রায় ৪০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে। গত ছয় ঘণ্টার হিসেবেও গতিবেগ প্রায় ১২ কিমি/ঘণ্টা ধরে রয়েছে।কী প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গে নিম্নচাপের প্রভাবে শনিবার ও রবিবার (দুই দিন) দক্ষিণবঙ্গের প্রতিটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের খবর রয়েছে; কলকাতায় অন্তত দু’দিন ধরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এর ফলে দুর্গাপূজার শোভাবা ভিজে পড়ার সম্ভাবনা অনিবার্য। বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর এই তিন জেলায় ঘন ঘন ভারী বর্ষণের আশঙ্কা দেখানো হচ্ছে।

সমুদ্র সীমান্ত ও মাছধরার সতর্কতা শনিবার ও রবিবার বঙ্গোপসাগরের উত্তর ও মধ্য অংশে ঘণ্টায় ৪০–৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস আছে; তাই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে ঝুঁকিপূর্ণ হাওয়া ও সমুদ্রের উচ্চতা বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি উত্তরবঙ্গে রাওক্ষেত্রে বৃষ্টি ছড়িয়ে পড়বে; শনিবার জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলা-গুলোতেও বজ্রসহ বৃষ্টি চলবে এবং দশমী পর্যন্ত বেশিরভাগ অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি থাকতে পারে। বিশেষ করে জলপাইগুড়িতে দশমী ও একাদশীতে ফের ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।মঙ্গলবার—রবিবারের পরের সময়রেখা, হাওয়া অফিস জানায়, সোমবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে; কিন্তু বুধবার থেকে ফের বৃষ্টিপাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবর ও শুক্রবার — দশমী ও একাদশী—সেই দু’দিন কলকাতা এবং হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও নদিয়ায় ৭–১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

বাস্তবিক পরামর্শ (মৌলিক সতর্কতা) —
১) মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে যাবেন না; নৌযান বাড়ি বা বন্দরে রাখুন।
২)পুজো অনুসঙ্গের বড় কাঠামো, আলোকসজ্জা ও প্যান্ডেলগুলোর বানানো অংশগুলি ঝড়-হাওয়ার প্রতিকূলতার দিক থেকে মজবুত করে রাখুন।
৩)স্থানীয় প্রশাসন ও হাওয়া দফতরের নিকটবর্তী সতর্কতা ও আপডেট নজরে রাখুন—প্রয়োজনে ট্রাভেল ও পুণ্যস্থানে যাওয়ার পরিকল্পনা সামঞ্জস্য করুন।
৪)জলাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ কেটে যাওয়া বা গাছপালার পতন ইত্যাদি সংক্রান্ত ঝুঁকি মেনে চলুন; জরুরি নম্বর সঙ্গে রাখুন।

ভোর সাড়ে চারটায় ওড়িশা উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করা নিম্নচাপ পশ্চিমদিকে অগ্রসর হয়ে শক্তি হারালেও আগামী দু’দিনে দক্ষিণবঙ্গে এবং বিশেষ করে কলকাতা ও কয়েকটি উপকূলীয় জেলায় প্রচুর বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব পড়বে। দশমী ও একাদশীতে আবারও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকায় পুজোর সময় আবহাওয়ার দিকটি চিন্তার বিষয় হবে স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়ার আপডেটগুলোর প্রতি নজর রাখাই মনে রাখার মতো বিষয়।