উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ফের অশান্ত হয়ে উঠল অসমের কার্বি আংলং জেলা (Violence flares up in Assam)। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন কার্বি আংলংয়ের দুইটি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গুজব ছড়ানো রুখতেই এই পদক্ষেপ। সোমবার দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে বাধ্য হয়। স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দপ্তরের এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জনশান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে।
আড়ও পড়ুন- Delhi IGI Airport Shock: বোর্ডিং লাইনে Air India Express পাইলটের বিরুদ্ধে যাত্রীকে মারধরের অভিযোগ
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সোমবার দোকানপাটে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে বহু মানুষ, যাদের মধ্যে মহিলা ও শিশুরাও ছিলেন, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। একই সময় কার্বি আংলংয়ের খেরোনি বাজার এলাকায় আদিবাসী বেল্ট থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের দাবিতে আরেকটি গোষ্ঠী জমায়েত করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মঙ্গলবার গোটা জেলায় (Violence flares up in Assam) কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। অসম পুলিশের আইনশৃঙ্খলা বিভাগের আইজি আখিলেশ কুমার সিং জানান, শান্তি ফেরাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে। এক সংবাদসংস্থা-কে তিনি বলেন, “একটি পক্ষকে ইতিমধ্যেই সরানো হয়েছে, অন্য পক্ষকেও দ্রুত সরানো হবে। শান্তিপূর্ণ আলোচনা হয়েছে এবং একজন মন্ত্রী এসে মানুষের অভিযোগ শুনেছেন। কারও সমস্যা থাকলে আইনি পথে তা জানানো উচিত। কেউ যেন নিজের হাতে আইন তুলে না নেয়।”
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্বি আংলং জেলায় (Violence flares up in Assam) ভারতীয় ন্যায় সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। জেলা শাসক নীরোলা ফাংচোপি জানান, ২২ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ধারা বলবৎ থাকবে, যাতে কোনও অসামাজিক শক্তি জাতিগত বা সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়াতে না পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকে। জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এছাড়াও মিছিল, পিকেটিং, মশাল মিছিল ও ধর্না নিষিদ্ধ করা হয়েছে (Violence flares up in Assam)। আগ্নেয়াস্ত্র বহন, বাজি ফাটানো, উস্কানিমূলক বা দেশবিরোধী বক্তব্য, পোস্টার ও দেওয়াল লিখন প্রদর্শনেও নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। পূর্বানুমতি ছাড়া লাউডস্পিকার বা মাইকের ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
