২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : বৃহস্পতিবার সকালে লালগড় রেঞ্জের ভাউদি বিটের আজনাশুলি গ্রামের পাশে জঙ্গলের রাস্তায় এক অজানা জন্তুর পায়ের ছাপ দেখা যাওয়ায় তীব্র উদ্বেগ ছড়ায় এলাকায়। গ্রামবাসীরা দাবি করেছেন, পায়ের ছাপটি বাঘের পায়ের ছাপের সঙ্গে মিল রয়েছে—তেমনই সড়কপথে গরু-মহিষ নিয়ে যাওয়া মানুষজন এখন ভয়ে ঘরবন্দি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বনদপ্তরের কর্মীরা এবং পায়ের ছাপটি স্কেলে মেপে নেন।স্থানীয় বাসিন্দা মনোজ মাহাতো জানান, “গ্রাম সংলগ্ন রাস্তায় বাঘের পায়ের ছাপের মতো একটি অজানা জন্তুর পায়ের ছাপ দেখা গিয়েছে। এই ধরনের পায়ের ছাপ আগে কখনও এই এলাকায় দেখা যায়নি… এখন তো ভয়ে আমরা ঘরবন্দি।
”লালগড় রেঞ্জ অফিসার সৈকত বিশ্বাস বলেন, পায়ের ছাপটি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে হুড়ার বা বড় জঙ্গল ক্যাটের মতো মনে হচ্ছে। তিনি গ্রামবাসীদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য পরামর্শ দেন এবং জানান, কোন জন্তুর পায়ের ছাপ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে—পদচিহ্নের প্রকৃতি নির্ণয় ও ক্ষেত্রটির তৎপর নজরদারির জন্য ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানোর বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে।ঝাড়গ্রাম শহরের এক পশু বিশেষজ্ঞ প্রাথমিকভাবে বলছেন, পায়ের ছাপ দেখে মনে হচ্ছে এটি আড়াই থেকে তিন বছরের কোনও বাচ্চা বাঘের হতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সন্তান থাকলে তার মা থাকাও সংগতিসংগত প্রশ্ন এবং এ বিষয়ে স্পষ্ট হতে বনদপ্তরের বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। বনদপ্তরও বারবার জানিয়েছে, তদন্ত ছাড়া কোনরকম অনুমান করা যাবে না।
এই ঘটনার সঙ্গে ২০১৮ সালের লালগড় লাগেওয়ার ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় এলাকাবাসী। তখনও অনুরূপ পায়ের ছাপ দেখার পর ট্র্যাপ ক্যামেরায় একটি পূর্ণবয়স্ক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ধরা পড়ে। কয়েক মাস পাহাড়ি জঙ্গল ও লাগোয়া এলাকায় অবস্থান করার পরে সেই বাঘটিকে শিকারিরা নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল বনদপ্তর তখন জানিয়েছিল, ওডিশার সিমলিমাপাল থেকে ঝাড়খণ্ডের পথ ধরে বাঘটি লালগড়ে ঢুকেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে লালগড়বাসীদের মধ্যে ফের ভয় ও সতর্কতা বাড়ছে।এ সময় বনদপ্তরের অস্থায়ী টিম ঘটনার স্থলে নিয়মিত পাট্রোল বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অনুরোধ করা হচ্ছে—যতদিন না পর্যন্ত বনদপ্তরের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট বার্তা আসে, ততদিন গ্রামের সংলগ্ন জঙ্গলে গবাদি পশু নিয়েই যাতায়াত কমিয়ে আনুন এবং সন্দেহভাজন কোনো পদচিহ্ন বা উদ্ধত জন্তুর কোনও ইঙ্গিত দেখলেই বনবিভাগকে অবিলম্বে জানাবেন। তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ চলছে—পরবর্তীতে বনদপ্তর থেকে জানানো হবে পায়ের ছাপের প্রকৃত পরিচয় ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।
