২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে সন্দেশখালিতে প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে আহত ৪। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা সন্দেশখালির খুলনা জুড়ে। বসিরহাটের সন্দেশখালি থানার খুলনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল অবধি ওই এলাকায় দুর্গা পুজো করে আসছিল ‘দক্ষিণ খুলনা সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি’। সেই কমিটি পূর্বনির্ধারিত সদস্যদেরকে নিয়ে ২০২৫ সালেও দুর্গা পূজা কমিটি গঠন করে পুজো করতে উদ্যোগী হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে বাধ সাধে এলাকারই আরেক তৃণমূল নেত্রী তনুশ্রী সরকার। তাদের বক্তব্য, বিগত ১০ বছর ধরে একই কমিটি দক্ষিণ খুলনায় পুজো করে আসছে।
এবার নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। তারপরেই দক্ষিণ খুলনায় দুর্গাৎসব সম্পন্ন হবে। বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার আলোচনার মধ্যেই দু’পক্ষ বাগ-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার এই বিষয়টি সমাধান করতে দুই কমিটির সদস্যকে সন্দেশখালি ২নং ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক ডেকে পাঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সন্দেশখালি থানার আধিকারিক সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। বৈঠক শেষে দু’পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাধে অভিযোগ তনুশ্রী সরকার, তনিমা গায়েন ও সমীর বৈদ্য সহ একাধিক নতুন কমিটির লোকজন চড়াও হয় খুলনা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সত্যজ্যোতি সাণ্যালের দলের উপরে।
পাল্টা সত্যজ্যোতির লোকজন তাদের উপরে চড়াও হয়। দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ঘটনায় আহত হয় অরূপ মন্ডল, চপলেন্দু মন্ডল ও মানবেন্দ্র দে সহ মোট চারজন। তাদের মাথায় ও পায়ে ব্যাপক আঘাত লাগে। তাদের উদ্ধার করে সন্দেশখালি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে অরূপ মন্ডল ও চপলেন্দু মন্ডলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে খুলনা এলাকায়। বিষয়টি নিয়ে সন্দেশখালি ২নং ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি দিলীপ মল্লিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টি পুরো উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “দক্ষিণ খুলনা একটি পুজো হয়। সেখানে গ্রামবাসীদের সঙ্গে পঞ্চায়েত সদস্যের একটি ঝামেলা হয়।
সেখানে গ্রামবাসীদের সংখ্যা বেশি ছিল। মেম্বার পক্ষের সদস্য সংখ্যা কম ছিল। বিষয়টি নিয়ে সন্দেশখালি থানা হস্তক্ষেপ করে বিডিও অফিসে দুই পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে একটি মীমাংসাও হয়। বৈঠক শেষে গ্রাম সদস্যের পক্ষের লোকজন গ্রামবাসীর একজনের মুখে খামচে দেয়। তারপরেই দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। পরবর্তীতে সন্দেশখালি থানার হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিটে যাওয়ার পর সবাই সবার বাড়ি চলে যায়। এটা কোন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নয়। এলাকাবাসীদের সঙ্গে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের বচসা। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখবে।
