মারুতি পরিচালিত ‘দ্য রাজা সাব’ (The Raja Saab Review) মুক্তির আগে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল এক ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি—গ্র্যান্ড স্কেল, হাসি, রোম্যান্স আর এক চিমটি ম্যাজিক। কিন্তু প্রভাস অভিনীত এই ছবিটি সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে গিয়ে বারবার ধৈর্যের পরীক্ষা নেয়। রোম্যান্টিক দৃশ্যগুলো বিরক্তিকর হয়ে ওঠে, হাস্যরস কাজ করে খণ্ড খণ্ডভাবে, আর গ্র্যান্ডিয়োসিটি ও ম্যাজিক নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো। ‘হরর-কমেডি-রোম্যান্স’ ঘরানার এই ছবি তিন ঘণ্টারও বেশি দৈর্ঘ্যের মধ্যে নিজের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছতে ব্যর্থ।
দ্য রাজা সাব: গল্প-
রামু ওরফে রাজা সাব (প্রভাস)-এর জীবনের (The Raja Saab Review) একমাত্র ভালোবাসা তার ঠাকুমা গঙ্গা দেবী (জরিনা ওয়াহাব)। চারপাশের মহিলারা যাই ভাবুক, রাজুর জগত ঘুরপাক খায় শুধুই ঠাকুমাকে ঘিরে। ডাক্তারদের মতে গঙ্গা দেবী অ্যাডভান্সড আলঝেইমার্সে আক্রান্ত। তিনি প্রায় সবকিছু ভুলে গেলেও একজনকেই মনে রেখেছেন—তার স্বামী কানাকারাজু (সঞ্জয় দত্ত), যিনি বহু বছর ধরে নিখোঁজ। সেই নিখোঁজ স্বামীকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার যাত্রাই রাজুকে তার দাদু-দিদার অতীতের অন্ধকার রহস্যের মুখোমুখি দাঁড় করায় এবং বিপদের মুখে ফেলে তার প্রিয় সবকিছুকে।
রিভিউ-
ট্রেলারে বোমান ইরানি অভিনীত ড. পদ্মভূষণ চরিত্রটি কানাকারাজুকে এক ‘হিপনোটিস্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেন। কিন্তু ছবিতে (The Raja Saab Review) বোঝা যায়, সেটাই গল্পের কেবল সূচনা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই সম্ভাবনাময় কাহিনি গভীরে যাওয়ার বদলে পরিচালক মারুতি ছবির বিশাল অংশ ব্যয় করেছেন রাজুর অপ্রয়োজনীয় একাধিক প্রেমকাহিনি গড়ে তুলতে—অনিতা (রিদ্ধি কুমার), বেসি (নিধি আগারওয়াল) ও ভৈরবী (মালবিকা মোহনন)-এর সঙ্গে। অনেক ক্ষেত্রেই এই চরিত্রগুলো কেবল অবজেক্টিফিকেশনের শিকার।
৪০ মিনিটের বহুল প্রচারিত ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছনোর আগেই দর্শক এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে যে দৈত্য, কুমির, যোদ্ধা কিংবা মরুভূমির দৃশ্য আর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না।
যা কাজ করেছে-
ছবির রহস্যময় হাভেলিটি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। মাঝখানে জনমানবহীন জায়গায় কানাকারাজু নির্মিত এই প্রাসাদের প্রতিটি কোণায় লুকিয়ে রয়েছে অদ্ভুত সব চমক। রাজু ও তার সঙ্গীরা (The Raja Saab Review) সেখানে পৌঁছানোর পর কোন অদ্ভুত ও মজার পরীক্ষার মুখে পড়বে—তা জানার কৌতূহল তৈরি হয়। গুরুতর পরিস্থিতির মাঝেও কিছু ওয়ান-লাইনার ও বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ ছবির ভার কিছুটা হালকা করে। প্রভাসকে ‘যিশু’র সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া একটি রেফারেন্স বিশেষভাবে নজর কাড়ে।
দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে মারুতি দক্ষতার সঙ্গে দেখিয়েছেন, কীভাবে রাজু বাস্তব ও কল্পনা, সুস্থতা ও উন্মাদনার সীমারেখা মুছে ফেলতে পারে।
অপূর্ণ সম্ভাবনায় ডুবে গেল রাজা সাব-
ছবিতে একের পর এক দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে শুধুই পরের মুহূর্তে হতাশ করার জন্য। যেমন—এক দৃশ্যে ভৈরবী দুর্দান্ত অ্যাকশন করলেও, মুহূর্তের মধ্যেই সেই শক্তিকে রাজুর ‘হিরোইজম’-এর কাছে বিসর্জন দেওয়া হয়। বড়সড় সংঘাতগুলোও অবিশ্বাস্য রকমের সহজে মিটে যায়। একটি লড়াইয়ের দৃশ্যে দেখা যায় অবিনাশী স্যুটকেস আর মাধ্যাকর্ষণ অমান্য করা স্টান্ট—যা বোঝা তো দূরের কথা, বিশ্বাস করাও কঠিন। এর উপর থামান এস-এর অত্যধিক জোরে বাজানো হ্যারি পটার ও ‘রাতসাসান’-অনুপ্রাণিত ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর (The Raja Saab Review) পরিস্থিতিকে আরও অসহ্য করে তোলে।
প্রভাসের মুখ বারবার ডুপের শরীরে কাঁচাভাবে বসানো হয়েছে—যা প্রত্যেকবারই দর্শককে গল্পের ভেতর থেকে ছিটকে বের করে আনে। প্রশ্ন জাগে, কেন ভূতের বাড়িতে ঘুরে বেড়ানো মহিলা চরিত্রগুলো লেহেঙ্গা, ঝলমলে শাড়ি বা থাই-হাই স্লিট ড্রেসে সজ্জিত? যেখানে প্রতি মুহূর্তে বিপদের আশঙ্কা, সেখানে একটু ব্যবহারিক পোশাক কি পাওয়া যেত না—বিশেষত যখন সেই বাড়ির ‘ম্যাজিক্যাল ওয়ার্ডরোব’ সবকিছুই দিতে পারে! তার উপর ট্রেলারে দেখানো প্রভাসের ধূসর (The Raja Saab Review) চুলের লুকসহ একাধিক আকর্ষণীয় দৃশ্য ছবিতে রাখাই হয়নি।

উপসংহার-
হরর-কমেডি ঘরানা ভারতীয় সিনেমায় নতুন নয়। ‘ভুলভুলাইয়া’ (২০০৭) বা ‘আনন্দো ব্রহ্মা’ (২০১৭)-এর মতো ছবি আগে থেকেই মানদণ্ড স্থাপন করেছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কেবল একটি আকর্ষণীয় সেটআপ বানিয়ে কিছু আইডিয়া ছুড়ে দিয়ে দেখার চেষ্টা করা নিছক আলসেমি। ‘দ্য রাজা সাব’ (The Raja Saab Review) হাসাতে চায় বটে, কিন্তু তার জন্য দরকার ছিল আরও গভীরতা ও সৃজনশীলতা।
ঠিক যখন দর্শক প্রেক্ষাগৃহের এক্সিট সাইন খুঁজছে, তখনই ঘোষণা হয় সিক্যুয়েল—‘দ্য রাজা সাব ২: সার্কাস ১৯৩৫’। তখন আর প্রশ্ন ওঠে না কেন প্রভাস ক্লাউন মেকআপে বসে আছেন বা কেন গল্প এবার সার্কাসে। সব মিলিয়ে—যা আছে, তাই-ই আছে!
