২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : কর্মসূচির নাম ‘আমার পাড়া আমার সমাধান।’ আর সেই শিবিরে গিয়ে পাড়ার সমস্যার কথা তুলে ধরতেই রেগে খাপ্পা প্রধান আর উপপ্রধান! এলাকাবাসীদের রীতিমত চোখরাঙিয়ে বললেন, “বেরিয়ে যান, বেরিয়ে যান…!” খড়্গপুর গ্রামীণ থানার কলাইকুন্ডা ৪ নম্বর অঞ্চলের পশ্চিম আম্বা বুথের গোকুলপুর এলাকার সেই ঘটনা ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল।
এ নিয়ে প্রধান, উপপ্রধানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এলাকার বাসিন্দা ইসলাম মল্লিক সহ বেশ কয়েকজনকে। তাঁদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার খড়্গপুর গ্রামীণ থানার গোকুলপুর বিধানচন্দ্র বিদ্যাভবন স্কুলে অনুষ্ঠিত হয় ‘আমার পাড়া আমাদের সমাধান’ শিবির। সেখানে গিয়েই নিজেদের এলাকার একটি রাস্তা নিয়ে সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন ইসলাম মল্লিক সহ এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ওই রাস্তা দিন দিন সংকীর্ণ হচ্ছে। রাস্তার দখল করে বাড়ি করে নিচ্ছেন অনেকে। সেইসঙ্গেই রাস্তার হাল বেহাল। বর্ষার দিনে পড়ুয়া সহ সকলকেই অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাই অবিলম্বে রাস্তা সংস্কার বা পাকা রাস্তার দাবি তুলেছিলেন ইসলামরা। কিন্তু, এই দাবি তুলে ধরার সাথে সাথেই শিবিরে উপস্থিত প্রধান মল্লিকা মুদি এবং উপপ্রধান কৃষ্ণা দোলই তাঁদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি শিবির ছেড়ে ‘বেরিয়ে যেতে’-ও বলেন। সেই ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই নিজের সমাজ মাধ্যমে একাউন্টে পোস্ট করেছেন ইসলাম সহ বেশ কয়েকজন।
যদিও, প্রধান মল্লিকা মুদি অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, “প্রতি বুথের জন্য ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হচ্ছে। তাই এলাকার সবথেকে বড় সমস্যার কথা জানাতে বলেছিলাম। ওই রাস্তা পরে সারাই করলেও হবে বলেছিলাম। কিন্তু ওঁরা চেঁচামেচি করছিলেন। তাই পাশের রুমে গিয়ে সমস্যার কথা লিখে দিতে বলেছিলাম।” এনিয়ে শুক্রবার সকালে ইসলাম বলেন, “আমরা কি এলাকার বাসিন্দা নই না সরকারের সমর্থক নই, যে আমাদের সাথে এরকম দুর্ব্যবহার করা হলো! এই রাস্তা আগে ৪০ ফুটের ছিল, কমতে কমতে ৮-৯ ফুটের হয়েছে। বর্ষাকালে হাঁটা যায় না। জল জমে থাকে সব সময়। বাচ্চাদের কষ্ট করে স্কুলে যেতে হয়। তাই বুথের জন্য যে ১০ লক্ষ টাকা দিচ্ছে সরকার, সেই টাকায় এই রাস্তা ঢালাই করার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু, প্রধান-উপপ্রধান দুর্ব্যবহার করে বেরিয়ে যেতে বলেন। বৃহস্পতিবারের সেই ভিডিও আমরা ফেসবুকেও পোস্ট করেছি।” সব মিলিয়ে সরকারি কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে ওই এলাকায়।
