২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! ভারতীয় সময় অনুযায়ী ঘড়িতে ঠিক বেলা ৩টে ১ মিনিট। শুভাংশু শুক্ল-সহ চার নভশ্চরকে নিয়ে ভাসতে ভাসতে প্রশান্ত মহাসাগরে নেমে এল স্পেসএক্সের মহাকাশযান ‘ড্রাগন’।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে পৃথিবীতে ফিরলেন শুভাংশুরা। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়াগো উপকূলে তখন অবশ্য রাত! নির্ধারিত সময়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে শুভাংশুদের ক্যাপসুল। এই সময় যে কোনও মহাকাশযান তীব্র তাপ এবং ঘর্ষণের সম্মুখীন হয়। এই সময়ে ক্যাপসুলের গতি ছিল ঘণ্টায় ২৮ হাজার কিলোমিটার। ধীরে ধীরে তা কমতে কমতে ২৪ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় নেমে আসে। এর পর একে একে খুলে যায় চারটি প্যারাশ্যুট। ভাসতে ভাসতে প্রশান্ত মহাসাগরে নেমে আসে ‘ড্রাগন’।
২৬ জুন ইতিহাস তৈরি করেন ভারতীয় নভশ্চর শুভাংশু শুক্লা। অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানের অংশ হিসাবে অন্য তিন মহাকাশচারীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন পৌঁছান শুভাংশু। তারপর গত কয়েকদিন ধরে মহাকাশ থেকে একাধিক বিষয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। নির্দিষ্ট মিশন শেষে এরপর শুরু হয় ঘরে ফেরার প্রস্তুতি। ১৪ জুলাই ভারতীয় সময়ানুসারে ৪টে ৩৫ মিনিটে (আমেরিকার সময় ভোর ৭টা বেজে ৫ মিনিটে) ড্রাগন স্টেশন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। এরপর প্রায় ২২ ঘণ্টার দীর্ঘ সফর শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন তাঁরা।
অবশেষে, ১৮ দিন আইএসএসে কাটানোর পর সোমবার শুভাংশুদের প্রত্যাবর্তন শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের একটু পরে বিকেল ৪টে ৪৫ মিনিটে (ভারতীয় সময়) মহাকাশকেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয় শুভাংশুদের মহাকাশযান। ২৩ ঘণ্টার দীর্ঘ সেই যাত্রার শেষে ফিরলেন চার নভশ্চর। তবে এখানেই শেষ নয়! বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ফেরার পরেও দীর্ঘ প্রক্রিয়া অপেক্ষা করে রয়েছে শুভাংশুদের জন্য। প্রথমেই নভশ্চরদের বেশ কয়েক দফা মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হবে। এত দিন মহাকাশের মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশে কাটানোর পর পৃথিবীতে ফিরে মানিয়ে নিতে অসুবিধা হয়। সে জন্য আগামী সাত দিন বিশেষ পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে চার নভশ্চরকে।
