এসএসসি (SSC) ২০২৫-এর একাদশ–দ্বাদশের ফল প্রকাশ হতেই নতুন বিতর্ক। অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট অযোগ্য (‘টেন্টেড’) প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিলেও ইন্টারভিউ তালিকায় তাঁদের অনেকেরই নাম রয়েছে। এমনকি কয়েকজন ক্লার্কের নামও এসেছে শিক্ষক নিয়োগের তালিকায়। এ নিয়েই আইনজীবী ফিরদৌস শামিম সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিচারপতি মামলাটি গ্রহণ করেছেন; চলতি সপ্তাহেই রয়েছে শুনানির সম্ভাবনা।
আরও পড়ুন- SSC: দীর্ঘ ৯ বছর পর অবশেষে অপেক্ষার অবসান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের
SSC- ফল প্রকাশের পরে দেখা যায়, কাট-অফ ৭০% এর বেশি হলেও বহু যোগ্য প্রার্থী ডাক পাননি— এমনকি ৬০–এ ৬০ পেলেও নয়। মোট ডাকা হয়েছে ২০ হাজারের কিছু বেশি প্রার্থীকে। আন্দোলনে থাকা ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের অনেকে আবার বাদও গিয়েছেন।
সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে নীতীশ রঞ্জন প্রামাণিকের নামকে ঘিরে। তিনি অযোগ্য তালিকায় থাকা সত্ত্বেও একাদশ–দ্বাদশের ফলাফলে পাশ করে ইন্টারভিউয়ের ডাক পেয়েছেন। তাঁর পরিবার দাবি করছে, তিনি বিশেষভাবে সক্ষম, তাই আবেদন করতে পেরেছেন। যদিও ‘দাগী’ প্রার্থীরা পরীক্ষায় বসতে পারবেন কি না— তা সুপ্রিম কোর্টের আগের আদেশে স্পষ্ট লেখা ছিল না। এই অস্পষ্টতাকেই কেন্দ্র করে নতুন মামলা।
আরও অভিযোগ, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জন্য বরাদ্দ ১০ নম্বরের সুবিধা এমন প্রার্থীরাও পেয়েছেন, যাঁদের জন্ম ১৯৯৭ সালে— ফলে এত কম বয়সে তাঁদের ‘অভিজ্ঞ শিক্ষক’ হিসেবে ধরা হল কীভাবে , উঠছে প্রশ্ন। প্যানেলে ভুল সংশোধন করে মেধা অনুযায়ী তালিকা প্রকাশের দাবি তুলছেন একাংশ চাকরিপ্রার্থী।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের নিয়োগের পুরো SSC-প্যানেল বাতিল করেছিল সুপ্রিম কোর্ট, ফলে চাকরি হারান ১৭,২০৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। এরপর এসএসসি ১,৮০৪ জন অযোগ্যকে বাদ দিয়ে নতুন প্রক্রিয়া শুরু করে। চলতি বছরের ৩০ মে প্রকাশিত নিয়মে রাজ্য ও কেন্দ্র-অনুমোদিত স্কুলে কর্মরত শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার জন্য সর্বোচ্চ ১০ নম্বর বরাদ্দ করা হয়। এসএসসি-র নতুন ফল প্রকাশের পর অযোগ্যদের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক ফের আদালতের দরজায় পৌঁছল।
