২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : কয় মাস আগে ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে মৃত্যু হয় অন্য বয়স্ক বাঘ সোহনের। এরপর থেকে সঙ্গীর মৃত্যুতে কিছুটা মুছরে পড়েছিল বাঘিনী সোহিনী। সঙ্গীর বিরহে বেশ কিছু মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর অবশেষে মৃত্যু হল বাঘিনীর সোহিনীর। বনবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে ঐ বাঘিনী হঠাৎই নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এরপর তড়িঘড়ি বনকর্মীরা তড়িঘড়ি ওই বাঘিনীকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বাঘিনি সোহিনীকে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করে। এই ঘটনায় শোকোস্তব্ধ হয়ে পড়েছে বনকর্মীরা।
মৃত্যুকালীন সোহিনী বয়স হয়ে ছিল ২৩ বছর। চিকিৎসকেরা জানিয়েছে বার্ধক্য জনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে পূর্ণবয়স্ক বাঘিনীর। এ বিষয়ে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা মুখ্য বন বিভাগের আধিকারিক নিশা গোস্বামী(ডি এফ ও) তিনি বলেন, বুধবার ঝড়খালীর ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে মৃত্যু হয় এক বাঘিনী। মৃত ওই বাঘিনীর নাম সোহিনী (২৩)। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য জনিত রোগে ভুগছিল এই পূর্ণবয়স্ক বাঘিনী। কয়েক মাস আগে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছিল সোহিনীর সঙ্গী সোহনের। সোহন এই রাজ্যের অন্যতম প্রবীণ বাঘ ছিল।সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে এসে ধরা পড়ার পর থেকেই ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রই তার ঠিকানা হয়ে উঠেছিল। এদিকে মৃত্যুর দু’বছর আগে থেকেই সোহিনির চোখে ছানি পড়েছিল।
নানা শারীরিক সমস্যাও মাঝেমধ্যে দেখা দিত তার। কিন্তু বনকর্মীদের দেখভাল ও যত্নের কারণেই এতদিন জীবন কাটিয়েছে সে। বন আধিকারিকদের মতে, সাধারণত পূর্ণবয়স্ক বাঘের আয়ু ১৫ থেকে ১৬ বছর হয়। নজরদারি ও যত্নের মধ্যে থাকার জন্যই সোহিনি তার থেকেও বেশি বছর বেঁচে ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। সোহিনির মৃত্যুতে এই ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে পড়ে রইল ‘সুন্দর’ আর আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে আনা অন্য একটি বাঘ। বৃহস্পতিবার বাঘিনীর দেহের ময়না তদন্ত করা হবে ময়নাতদন্তের পর দেহটি সৎকার করবে বনদপ্তরের কর্মীরা।
