সোমবার ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-কে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছে। একই মামলায় তাঁর মন্ত্রিসভার তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দু’জনেই বর্তমানে বাংলাদেশে নেই— হাসিনা ভারতে, আর আসাদুজ্জামান বিদেশে গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন-দেশে ফিরতে গিয়ে পাকড়াও বাংলাদেশী! হলদিবাড়ি, লালগোলা থেকে একের পর এক বাংলাদেশী আটক!
রায় ঘোষণার আগেই অডিয়ো বার্তায় কার্যত হুঙ্কার দেন হাসিনা (Sheikh Hasina)। অভিযোগগুলোকে “মিথ্যে” বলে দাবি করে তাঁর বক্তব্য— “এই রায়ের পরোয়া করি না। আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, তিনিই নেবেন।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস আওয়ামি লিগকে নির্মূল করতে চাইছেন, কিন্তু “মাটি থেকে উঠে আসা দলকে শেষ করা যাবে না।”
গত বছর কোটা সংস্কার বিরোধী আন্দোলনের জেরে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ‘রাজাকার’ মন্তব্য ও আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানোর ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রবল জনরোষের মুখে ৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) এবং ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে ঢাকা তাঁকে বহুবার ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছে। ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর ভারতকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ চিঠিও পাঠানো হয়েছিল, তবে ভারত এখনও কোনও অবস্থান জানায়নি।

রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতকে ফের চিঠি পাঠানো হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাসিনার তৈরি ট্রাইব্যুনালই আজ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার হওয়া এক বড় রাজনৈতিক নির্মাণ। তাঁদের অনুমান, রায়ের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন চাপে পড়তে পারে।
ভারত কী সিদ্ধান্ত নেবে— তা এখনই স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বাংলাদেশ এবার প্রত্যর্পণ চুক্তির জোরেই চাপ বাড়াবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণেও এই রায়ের প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
