S. Jaishankar: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ‘ভাল ও মন্দ প্রতিবেশী’ তত্ত্বে বিদেশমন্ত্রী

Published on: January 3, 2026
S. Jaishankar

Join WhatsApp

Join Now

বাংলাদেশে চলমান অশান্তি ও বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে ভারতের প্রতিবেশী নীতি নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর (S. Jaishankar)। চেন্নাইয়ের আইআইটি মাদ্রাজে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ভারতের “ভাল প্রতিবেশী” ও “মন্দ প্রতিবেশী” নীতির ব্যাখ্যা দেন এবং বলেন, এই নীতি মূলত “কমন সেন্স”-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

আরও পড়ুন- Former Bangladesh PM Khaleda Zia dies: বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান

লাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর তাঁর শেষকৃত্যে যোগ দিতে বুধবার ঢাকায় যান বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্কর (S. Jaishankar)। সেই সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে শোকবার্তা তুলে দেন খালেদা জিয়ার পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে। সফরের দু’দিন পর চেন্নাইয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিবেশী নীতি নিয়ে নিজের বক্তব্য রাখেন তিনি।

জয়শঙ্কর বলেন (S. Jaishankar), “যদি কোনও প্রতিবেশী দেশ আমাদের প্রতি সদ্ভাবপূর্ণ হয়, বা অন্তত ক্ষতিকর না হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের প্রবণতা থাকে সেই দেশকে সাহায্য করার। প্রতিবেশীর সমস্যা হলে আমরা পাশে দাঁড়াতে চাই। অন্তত সৌজন্য বিনিময়, বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করি, এটাই ভারতের স্বভাব।” তিনি আরও জানান, ভাল প্রতিবেশীদের ক্ষেত্রে ভারত বিনিয়োগ করে, সাহায্য করে এবং সম্পদ ভাগ করে নেয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি কোভিড অতিমারির সময় টিকা সরবরাহ, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় জ্বালানি ও খাদ্য সহায়তা এবং শ্রীলঙ্কার আর্থিক সংকটে ৪ বিলিয়ন ডলারের সাহায্যের কথা উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, “মন্দ প্রতিবেশী” প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী (S. Jaishankar) স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ও ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত থাকে, তাদের থেকে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার ভারতের রয়েছে। “আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব। কীভাবে করব, তা আমাদের সিদ্ধান্ত। আমাদের আত্মরক্ষার বিষয়ে কেউ নির্দেশ দিতে পারে না,”-বলেন জয়শঙ্কর।

পাহালগাম জঙ্গি হামলার পর ভারতের পক্ষ থেকে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের প্রসঙ্গ টেনে এনে, পরোক্ষভাবে পাকিস্তানকে আক্রমণ করেন তিনি (S. Jaishankar)। জয়শঙ্কর বলেন, “অনেক বছর আগে একটি জলবণ্টন চুক্তি করা হয়েছিল সদিচ্ছার ভিত্তিতে। কিন্তু যদি বছরের পর বছর সন্ত্রাস চলতেই থাকে, তাহলে সেখানে আর কোনও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক থাকে না।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আপনি একদিকে জল ভাগ চাইবেন, আর অন্যদিকে সন্ত্রাস চালিয়ে যাবেন-এটা চলতে পারে না। ভাল প্রতিবেশীত্ব না থাকলে, তার সুবিও পাওয়া যায় না।”