বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও জনপ্রিয় লেখক রস্কিন বন্ডকে (Ruskin Bond Hospitalised) ডেহরাদুনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পায়ে তীব্র অস্বস্তি ও দুর্বলতার অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালে আসেন ৯০ বছর বয়সি এই বেস্টসেলার লেখক। চিকিৎসকদের মতে, তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রস্কিন বন্ডের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর একটি পা আগের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে, যার ফলে হাঁটাচলায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। বয়সজনিত কারণে এই সমস্যা আরও বেড়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
১৯৩৪ সালে হিমাচল প্রদেশের কাসৌলিতে জন্ম নেওয়া রস্কিন বন্ড (Ruskin Bond Hospitalised) কয়েক দশক ধরে অসংখ্য উপন্যাস, ছোটগল্প ও প্রবন্ধ লিখেছেন। বিশেষত শিশুদের জন্য লেখা তাঁর গল্পগুলো পাঠকমহলে ভীষণ জনপ্রিয়। তাঁর লেখায় বারবার ফিরে এসেছে শৈশবের পাহাড়ি জীবন, প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ এবং মানবিক অনুভূতি।
কি এই ‘গেইট ডিসঅর্ডার’ বা ‘হাটার সমস্যা’?
গেইট ডিসঅর্ডার (Gait Disorder) বলতে হাঁটার স্বাভাবিক ছন্দ ও ভঙ্গিতে অস্বাভাবিকতাকে বোঝানো হয়। এটি মূলত মস্তিষ্ক, স্নায়ু, পেশি বা হাড়ের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। এই সমস্যার ফলে হাঁটার সময় ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, হাঁটা যদি ধীর, অসম, টলমলে বা অস্বাভাবিক হয়ে যায়, তাহলে সেটি কোনো না কোনো অভ্যন্তরীণ রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। এটি সামান্য বাতের সমস্যা থেকেও হতে পারে, আবার পার্কিনসন্স, স্ট্রোক বা স্নায়ুর জটিল রোগের লক্ষণও হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee apologize: সল্টলেকের বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন মমতা
বিশেষ করে অ্যাটাক্সিক গেইট-এর ক্ষেত্রে মানুষ সোজা লাইনে হাঁটতে পারে না, পা জড়িয়ে আসে এবং হিল-টু-টো হাঁটার সময় ভারসাম্য নষ্ট হয়।
হাঁটার সমস্যা কতটা সাধারণ?
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী—
- ৬০ বছরের পর প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে হাঁটার সমস্যা দেখা দেয়
- ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স হলে এই হার বেড়ে ৮০ শতাংশেরও বেশি
- শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত এই সমস্যা কম দেখা যায়, যদি না কোনো জন্মগত সমস্যা বা আঘাত থাকে
হাঁটার সমস্যার সাধারণ লক্ষণগুলো কী?
হাঁটার সমস্যার ধরন অনুযায়ী লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে—
- পা টেনে টেনে হাঁটা বা পা মাটিতে ঘষা
- হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানো
- কোমর ও পায়ের পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া
- হাঁটার সময় একপাশে বা দু’পাশে দুলে যাওয়া
- মাথা ও ঘাড় নিচু করে হাঁটা
- স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উঁচু করে পা তোলা
- খুব ছোট ছোট পা ফেলে হাঁটা
- হাঁটার সময় ব্যথা হওয়া
- বারবার হোঁচট খাওয়া বা পড়ে যাওয়ার ভয়
হাঁটার সমস্যা কেন হয়? সম্ভাব্য কারণগুলি
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটার সমস্যার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে—
- জয়েন্টে ব্যথা বা বাত
- পুরনো হাড় ভাঙা বা আঘাতের প্রভাব
- পায়ের ঘা, ফোসকা বা কড়া
- সঠিক মাপের নয় এমন জুতো
- কানের ভেতরের ভারসাম্যজনিত সমস্যা
- স্নায়ুর ক্ষতি (Neuropathy)
- চোখের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা
- পার্কিনসন্স রোগ (Parkinson’s Disorder)
- মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (Multiple Sclerosis)
- স্ট্রোক
- আর্থ্রাইটিস (Arthitis)
- সেরিব্রাল পালসি (Cerebral Palsy)
- হেমিপ্লেজিয়া (Hemiplegia)
- মেরুদণ্ড সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া (Spinal stenosis)
- হার্নিয়েটেড ডিস্ক বা স্লিপ ডিস্ক (Herniated Disc or Slip Disc)
হাঁটার সমস্যা কেন হয়? সম্ভাব্য কারণগুলি
চিকিৎসকরা বলছেন, হাঁটাচলায় হঠাৎ পরিবর্তন লক্ষ্য করলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব এবং ভবিষ্যতে বড় বিপদের ঝুঁকি কমানো যায়।
