Rani Mukerji on Craft: ৩০ বছরে রানি, মননে আজও নতুন

Published on: January 13, 2026

Join WhatsApp

Join Now

বলিউডে তিন দশক কাটিয়ে ফেলেছেন অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায় (Rani Mukerji on Craft)। কিন্তু এই দীর্ঘ সফরের পরেও তাঁর মনে হয়, তিনি আজও একজন নতুন অভিনেত্রী—ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে সেই পুরোনো নার্ভাসনেস, লাইন ভুলে যাওয়ার ভয়, নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ এখনো রয়ে গেছে। হিন্দি সিনেমায় ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে যশ রাজ ফিল্মসের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে শেয়ার করা এক খোলা চিঠিতে নিজের অনুভূতির কথা অকপটে জানালেন রানি।

আরও পড়ুনঃ ISRO’s mission: ডেটা বিশ্লেষণে ISRO, মিশনের সাফল্য এখনও নিশ্চিত নয়

৩০ বছরেও ‘নতুন’ রানি-

চিঠিতে রানি লেখেন, “৩০ বছর… উচ্চারণ করলেই অবাস্তব মনে হয়। আবার এটাও বোঝায়, যদি মন থেকে ভালোবেসে কিছু করা যায়, তাহলে সময় খুব দ্রুত কেটে যায়, আর আরও কাজ করার ক্ষুধা থেকে যায়।” তাঁর কথায়, অভিনয় তাঁর জীবনের কোনও পূর্বপরিকল্পিত স্বপ্ন ছিল না। বরং কাকতালীয়ভাবেই সিনেমা (Rani Mukerji on Craft) তাঁকে খুঁজে নিয়েছিল। “কোনও মাস্টার প্ল্যান নিয়ে আমি ইন্ডাস্ট্রিতে আসিনি। এসেছিলাম কৌতূহল, ভয় আর গল্পের প্রতি গভীর ভালোবাসা নিয়ে,” লেখেন তিনি।

কাকতালেই সিনেমায় রানি-

১৯৯৬ সালে ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় পা রাখেন রানি মুখোপাধ্যায়। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তখন তিনি সিনেমার (Rani Mukerji on Craft) কেরিয়ার কেমন হতে পারে, সে সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানতেন না। শুধু জানতেন, অভিনয় তাঁকে বাঁচিয়ে রাখে। সেই ছবিই তাঁকে প্রথম বড় শিক্ষা দিয়েছিল—সিনেমা শুধুই গ্ল্যামার নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দায়িত্ব। খুব অল্প বয়সে এক নারীর মর্যাদার লড়াইয়ের চরিত্রে অভিনয় করা তাঁর ভবিষ্যৎ অভিনেতা সত্তাকে গড়ে দিয়েছিল।

কাকতালেই সিনেমায় রানি-

রানি লেখেন, “সিনেমা এক অদ্ভুত মাধ্যম, যা অনুভূতিকে স্থির করে রাখে। আমার ভেতরে আজও সেই নার্ভাস মেয়েটা আছে, যে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ভাবছিল—আমি কি এখানে মানানসই?” বিভিন্ন ঘরানার ছবিতে (Rani Mukerji on Craft) কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর মতে, ‘সাথিয়া’ ছিল তাঁর কেরিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট, যা ‘হাম তুম’-এর মতো ছবির দরজা খুলে দেয়। সঞ্জয় লীলা ভানসালির ‘ব্ল্যাক’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করাকে রানি তাঁর জীবনের অন্যতম তীব্র ও রূপান্তরমূলক অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেছেন। এই ছবি তাঁকে শিখিয়েছে, নীরবতাও অনেক সময় শব্দের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয় এবং অভিনয় মানে শুধু সংলাপ বলা নয়, গভীরভাবে শোনা ও অনুভব করাও।

অভিনয়ে দায়িত্ব শিখিয়েছিল প্রথম ছবি-

নারীকেন্দ্রিক, সমাজের সঙ্গে লড়াই করা চরিত্র বরাবরই রানির কাছের। ‘বান্টি অউর বাবলি’-র স্বপ্নবাজ মেয়েটি হোক বা ‘নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা’-র দৃঢ়চেতা সাংবাদিক, কিংবা ‘মারদানি’-র (Rani Mukerji on Craft) পুলিশ অফিসার শিবানী শিবাজি রায়—সব চরিত্রের সঙ্গেই তিনি আত্মিক যোগ অনুভব করেছেন। বিশেষ করে ‘মারদানি’ ফ্র্যাঞ্চাইজ় তাঁর হৃদয়ের খুব কাছের। তাঁর কথায়, শিবানী কোনও উচ্চকিত নায়িকা নন, তিনি নীরব শক্তির প্রতীক। এই চরিত্রের মাধ্যমে এমন গল্প বলার সাহস পেয়েছেন, যা অস্বস্তিকর হলেও আশার আলো দেখায়।

‘ব্ল্যাক’ বদলে দিয়েছিলো রানি-

রানি জানান, বিয়ে ও মাতৃত্ব তাঁর কেরিয়ারকে থামিয়ে দেয়নি, বরং তাঁকে আরও স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও ফোকাস দিয়েছে। তিনি আরও বেছে বেছে কাজ করতে শিখেছেন এবং কী ধরনের উত্তরাধিকার রেখে যেতে চান, সে বিষয়ে সচেতন হয়েছেন। ২০২৩ সালের ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পাওয়াকে তিনি আন্তরিক গল্প বলার শক্তির প্রমাণ হিসেবে দেখেন। চিঠির শেষে রানি (Rani Mukerji on Craft) লেখেন, “একটি দীর্ঘস্থায়ী কেরিয়ার ট্রেন্ড বা খ্যাতির ওপর নয়, বরং সততা ও নিষ্ঠার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।” পরিচালক, সহ-অভিনেতা, টেকনিশিয়ান ও দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সিনেমা এক যৌথ প্রয়াস, আর এই পথে তিনি কখনও একা হাঁটেননি।

মারদানি ৩-এ ফের শিবানী-

৩০ বছর পূর্তির এই বিশেষ মুহূর্তে রানি মুখোপাধ্যায় ফিরছেন তাঁর জনপ্রিয় চরিত্র শিবানী শিবাজি রায় হিসেবে। ‘মারদানি ৩’ (Rani Mukerji on Craft) মুক্তি পেতে চলেছে ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষে। তাঁর কথায়, তিন দশক পরেও সিনেমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা একই রকম—হয়তো আরও গভীর, আরও শান্ত, আর আগের চেয়ে অনেক বেশি কৃতজ্ঞতায় ভরা।