NIRMALA SITHARAMAN : ১৮ সেপ্টেম্বর কলকাতায় অর্থমন্ত্রীর সফর, একাধিক সাংবাদিক বৈঠক ও জনসংযোগ কর্মসূচি

Published on: September 14, 2025

Join WhatsApp

Join Now

২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক :  পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির আকাশে নতুন মাত্রা যোগ করছে পুজোর মরশুম। একদিকে শহরজুড়ে উৎসবের প্রস্তুতি, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের টানা সফরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এই আবহেই কলকাতায় আসছেন দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী আঠারোই সেপ্টেম্বর শহরে পৌঁছবেন তিনি। সফরের উদ্দেশ্য একটাই— সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংস্কারের বার্তা। বিশেষ করে জিএসটি সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্তগুলি।সম্প্রতি জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে নেওয়া হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আর সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বাইশে সেপ্টেম্বর থেকে। পরিবর্তন এসেছে জিএসটি স্ল্যাব কাঠামোয়। এতদিন যে বারো শতাংশ ও আটাশ শতাংশের হার চালু ছিল, সেটি বাতিল করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় থাকবে তিনটি স্ল্যাব— পাঁচ শতাংশ, আঠারো শতাংশ এবং চল্লিশ শতাংশ। কেন্দ্রের দাবি, এতে স্বচ্ছ হবে কর ব্যবস্থা, সহজ হবে ব্যবসা-বাণিজ্য, আর উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষও।

সবচেয়ে বড় স্বস্তি মিলছে স্বাস্থ্য খাতে। স্বাস্থ্যবিমা ও জীবন বিমার ওপর থেকে সম্পূর্ণ জিএসটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি শূন্য করা হয়েছে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসের কর। এর মধ্যে রয়েছে তেত্রিশটি জীবনদায়ী ওষুধ। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের খাবারের অংশ— পাউরুটি, রুটি-পরোটা, পনিরের মতো নিত্যপণ্য থেকেও তুলে দেওয়া হয়েছে কর। সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্ত কোটি কোটি মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।এই সংস্কারকে বলা হচ্ছে— নেক্সট জেন জিএসটি রিফর্ম। সরকারের যুক্তি, কর কাঠামোর সরলীকরণ এবং মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে আর্থিক ক্ষেত্র আরও শক্তিশালী হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে প্রতিটি বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় নেতাকে বলা হয়েছে মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে। সেই কারণেই নির্মলা সীতারমণের সফরে থাকবে একাধিক সাংবাদিক বৈঠক এবং জনসংযোগ কর্মসূচি।তবে শুধু অর্থমন্ত্রী নন, পুজোর মুখে বাংলায় আসতে চলেছেন আরও একাধিক হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় নেতা। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার নাম ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। খবর অনুযায়ী, অমিত শাহ কলকাতার অন্তত দুটি বড় দুর্গাপুজো উদ্বোধনে যোগ দেবেন। ফলে উৎসবের আবহেই রাজ্যে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির এই কর্মসূচি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই সাজানো। দুর্গাপুজো ও কালীপুজো মিটলেই রাজ্যে শুরু হবে বড় রাজনৈতিক অভিযান। কিন্তু তার আগেই কেন্দ্রীয় নেতাদের টানা সফর, কার্যত নির্বাচনী প্রচারের সূচনা।

বিশ্লেষকদের বক্তব্য, একদিকে নতুন জিএসটি সংস্কারকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক স্বস্তির বার্তা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, উৎসবের মঞ্চকেই ব্যবহার করা হচ্ছে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য। অর্থাৎ রাজনৈতিক বার্তা আর সাংস্কৃতিক আবহ— দু’য়ের মিশ্রণ ঘটাচ্ছে বিজেপি।সব মিলিয়ে স্পষ্ট, বাংলার বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে রাজ্য ও কেন্দ্র সমন্বয় করে ঝাঁপাচ্ছে বিজেপি। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কারের সুফল তুলে ধরা, অন্যদিকে হেভিওয়েট নেতাদের আনাগোনায় কর্মীদের চাঙা রাখা। উৎসবের মরশুমেই তাই বাংলার রাজনীতি পৌঁছে যাচ্ছে নতুন উচ্চতায়।