Durga Puja : শারদোৎসবের আনন্দে নতুন রং, আট ইঞ্চির দুর্গা নজর কাড়ছে দেশ-বিদেশে

Published on: August 29, 2025

Join WhatsApp

Join Now

২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : “শরৎকালের কাশফুল, ঢাকের বাদ্যি আর দুর্গা—এই তিনেই শুরু হয় বাঙালির উৎসবের আসর” আর এই বছরে জলপাইগুড়ির রাখালদেবী এলাকার দেবাশিস ঝা আবারও তাক লাগালেন তাঁর শিল্পকর্মে। পেশায় পুরোহিত হলেও ছোটবেলা থেকেই মূর্তি গড়ার প্রতি অদম্য টান তাঁকে এনে দিয়েছে বিশেষ পরিচিতি। এ বছর তিনি গড়েছেন মাত্র আট ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের এক মিনি দুর্গা—যা ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ির এক গৃহস্থের বাড়িতে শোভা পেতে চলেছে ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের জন্য।

দেবাশিসের হাত ধরে তৈরি মিনি দুর্গা শুধু শহরেই সীমাবদ্ধ নেই। ইতিমধ্যেই নেপাল, রাজস্থান, মহিশুর, বর্ধমান, শিলিগুড়ি—দেশ–বিদেশের নানা জায়গায় পৌঁছে গেছে তাঁর শিল্পকর্ম। স্থানীয় বহু বারোয়ারি পুজোর মণ্ডপেও মিনি দুর্গা হয়ে উঠেছে বাড়তি আকর্ষণ।মাত্র ৫ ইঞ্চি থেকে ২৫ ইঞ্চি—এই মাপে বানানো প্রতিটি মিনি দুর্গার দাম শুরু হচ্ছে ৩,৫০০ টাকা থেকে, যা পৌঁছে যায় ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। মাটি, পোয়াল, বাঁশ, কাঠ—যেভাবে বড় প্রতিমা গড়ে ওঠে, একই প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় মিনি প্রতিমাও। তবে অলঙ্কার আর সাজসজ্জার জন্য বাজারে ভরসা রাখেন না দেবাশিস।

সরস্বতী পুজো থেকেই নিজে হাতে তৈরি করেন প্রতিমার গহনা। রঙের কাজে পাশে থাকেন স্ত্রী বেবি ঝা। ফলে প্রতিটি প্রতিমা হয়ে ওঠে নিখুঁত শিল্পকর্ম।দেবাশিসের কথায়, “শুধু দুর্গাপুজো নয়, অনেকেই নিত্যপুজো কিংবা ঘরের শোভা বাড়ানোর জন্যও মিনি দুর্গা চান। প্রতি বছর চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে।”জলপাইগুড়ির বামনপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক সুশোভন সরকার বললেন, “বড় প্রতিমার পাশাপাশি মিনি দুর্গা দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ দেয়। থিমের সঙ্গে মানানসই হয়, আবার মানুষ কাছ থেকে ছোট্ট প্রতিমা দেখে খুশি হন।”আশাবাদী দেবাশিস জানালেন, এ বছরও রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভিনরাজ্য থেকে অর্ডার এসেছে বেশ কিছু। বুকভরা ভক্তি আর আবেগে তিনি বললেন— “মিনি দুর্গা আমার কাছে শুধু শিল্প নয়, এটা আমার ভক্তি।”