CAA : সিএএ – তে নয়া সংশোধনী , নাগরিকত্বের সময়সীমা বাড়ল আরও ১০ বছর!

Published on: September 3, 2025

Join WhatsApp

Join Now

২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ করিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। ওই আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো মুসলিম ধর্মাবলম্বী দেশ থেকে যদি সে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে এ দেশে আশ্রয় চান, তা হলে তা দেবে ভারত। কিন্তু সিএএ-তে হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পার্সি এবং খ্রিস্টান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্তদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। ওই আইনে এ-ও বলা হয় যে, কেবলমাত্র যাঁরা নাগরিকত্বের আবেদন জানানোর আগে অন্তত এক বছর এবং তার আগে ১৪ বছরের মধ্যে অন্তত পাঁচ বছর ভারতে থেকেছেন, তাঁরাই নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য। তবে অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরামের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে ওই আইনে কিছু ছাড় দেওয়া হয়।২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসেই আইনটিকে ‘কার্যকর’ বলে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তখনও আইনটির আওতায় নির্দিষ্ট বিধি তৈরি হয়নি। ২০২৪ সালে সেই বিধি তৈরির কাজ শেষ হয়। তার পরেই অনেকে সিএএর আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন জমা দেওয়া শুরু করেন। আবার অনেকেই জমা দেনওনি।

এবার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানানোর সময়সীমা আরও ১০ বছর বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র। সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ থেকে যে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি, খ্রিস্টানরা ভারতে ধর্মীয় কারণে ঢুকেছেন, তাঁরা সবাই সিএএ-তে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন‍্য আবেদন জমা দিতে পারবেন। এই সময়সীমা আগে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল।

বিহারে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (এসআইআর) চলছে। সেই সমীক্ষায় বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি বেনাগরিক করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী দলগুলি। এই আবহে ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সংখ্যালঘুরা এ দেশে এলে তাঁরা নাগরিকত্ব পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির একাধিক নেতা-মন্ত্রী। এই আবহে সিএএ-তে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানানোর সময়সীমা আরও ১০ বছর বৃদ্ধি করল কেন্দ্র। সে ক্ষেত্রে ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট’-এ ওই শরণার্থীরা ভারতে ঢুকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে না। বরং তাঁরা নাগরকিত্বের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।

২০১৫ সালেও প্রায় একই বয়ানে সিএএ নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল কেন্দ্র। সেই গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে অবশ্য নাগরিকত্বের জন্য নির্ধারিত ভিত্তিবর্ষ ছিল ২০১৪ সালের ডিসেম্বর। সোমবারের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এই ভিত্তিবর্ষ ১০ বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর করা হয়েছে। তবে তার জন্য সংসদে নতুন করে বিল পাশ করাতে হবে কিনা, তা নিয়ে কেন্দ্রের শাসকদলের অন্দরে দু’রকম ব্যাখ্যাই রয়েছে। সোমবার গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন দুই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং শান্তনু ঠাকুর।