২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য এক ঐতিহাসিক দিনে মিজোরামের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপিত হলো। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করলেন বৈরবী-সৈরাং রেললাইন প্রকল্পের, যার নির্মাণ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮০৭০ কোটি টাকা। বহু প্রতীক্ষিত এই রেলপথের মাধ্যমে মিজোরাম যুক্ত হলো অসমের শিলচরের সঙ্গে, আর প্রথমবারের মতো রেলের চাকা গড়াতে চলেছে পাহাড়ি এই রাজ্যে।প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জানান, বৈরবী-সৈরাং রেললাইন শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, মিজোরামের অর্থনীতি ও জনজীবনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
পাহাড়ি প্রতিকূলতার মধ্যেও যেভাবে ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তার ফলেই এই প্রকল্প সফল হয়েছে বলে তাঁদের ধন্যবাদ জানান তিনি। ৪৫টি সুড়ঙ্গ, ৫৫টি বড় সেতু এবং ৮৮টি ছোট সেতুর মধ্য দিয়ে নির্মিত এই রেললাইন দেশের প্রকৌশল দক্ষতার উজ্জ্বল নিদর্শন বলেই মন্তব্য করেন মোদী।এদিন আইজলে মোট ৯০০০ কোটির একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসও করেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তিনি নির্ধারিত স্থানে পৌঁছতে পারেননি, বিমানবন্দর থেকেই ভার্চুয়াল বক্তৃতা দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালডুহোমা, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রমুখ।উত্তর-পূর্ব সফরে মিজোরামের পর মোদীর গন্তব্য মণিপুর।
প্রায় আড়াই বছর ধরে চলা সংঘর্ষ-পর্বের পর এই প্রথম তিনি মণিপুর সফরে যাচ্ছেন। সফরে তিনি মেইতেই অধ্যুষিত ইম্ফল ও কুকি অধ্যুষিত চুরাচান্দপুরে যাবেন, যেখানে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের অভিযোগ শুনবেন। শুধু তাই নয়, চুরাচান্দপুর ও ইম্ফলে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন এবং জনসভায় উন্নয়নের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।বিরোধীদের কটাক্ষ করে মোদী বলেন, বছরের পর বছর ধরে কিছু রাজনৈতিক দল ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে মেতে থেকেছে। আসন আর ভোটের হিসাবেই তারা সীমাবদ্ধ থেকেছে, ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল বঞ্চনার শিকার হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের উদ্যোগেই এই পরিস্থিতি বদলাচ্ছে এবং আগামী দিনে উত্তর-পূর্ব ভারতের সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
