MGNREGA to Rebranded Schemes: কল্যাণ প্রকল্পের রুপান্তরের রাজনীতি

Published on: December 27, 2025

Join WhatsApp

Join Now

নরেন্দ্র মোদি সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত—MGNREGA-র নাম বদলে ‘VB-G Ram G’ (MGNREGA to Rebranded Schemes) করা—আসলে তাদের ভাষাগত কৌশলের আরেকটি উদাহরণ। এটি এমন এক শাসনধারার প্রতিফলন, যেখানে ভাবমূর্তি গঠনের উপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়, যা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিনির্ভর শাসনপদ্ধতির সম্পূর্ণ বিপরীত। গত ১১ বছরে মোদি সরকার একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কল্যাণমূলক প্রকল্পের নাম বদলেছে, অনেক ক্ষেত্রেই সেইসব প্রকল্পে মোদির ছবি ও তাঁর দলের প্রতীক জুড়ে দেওয়া হয়েছে—যে প্রকল্পগুলি মনমোহন সিংয়ের আমলে ব্যক্তিপূজার ঊর্ধ্বে থেকে চালু হয়েছিল। মনমোহন সিংয়ের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী (২৬ ডিসেম্বর)-এর ঠিক আগেই তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন হওয়াটা তাই আরও তাৎপর্যপূর্ণ।

দুই প্রধানমন্ত্রীর পার্থক্য বোঝার জন্য মনমোহন সিংয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের দিকে তাকানো জরুরি। ২০০৮ সালে সাধারণ মানুষের জন্য সস্তা ওষুধ নিশ্চিত করতে রাসায়নিক ও সার মন্ত্রকের অধীনে চালু হয় ভারতীয় জনঔষধি যোজনা। অল্প সময়ের মধ্যেই সারা দেশে জনঔষধি কেন্দ্র গড়ে ওঠে। কিন্তু ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্পটিও (MGNREGA to Rebranded Schemes) পুনঃনামকরণের শিকার হয়। এর নাম বদলে রাখা হয় ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি পরিয়োজনা’, বাধ্যতামূলক করা হয় মোদির ছবি প্রদর্শন, যোগ হয় ‘BJP’ সংক্ষিপ্ত রূপ এবং গেরুয়া রঙের নতুন লোগো। জনস্বাস্থ্যের প্রয়োজনে তৈরি একটি প্রকল্প ধীরে ধীরে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি বৃদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত হয়।

এরপরই সংবাদপত্র, ওয়েবসাইট ও ইউটিউবে প্রশংসামূলক নিবন্ধ ও ভিডিওর বন্যা দেখা যায়। অথচ ইউপিএ আমলে চালু হওয়া প্রকল্পগুলির মধ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী’ উপসর্গযুক্ত একটি প্রকল্পও খুঁজে পাওয়া কঠিন। হিসেব অনুযায়ী, মনমোহন সিংয়ের সময়ে চালু হওয়া দুই ডজনেরও বেশি প্রকল্পের (MGNREGA to Rebranded Schemes) নাম পরবর্তীকালে বদলে দেওয়া হয়েছে।

এটাই ছিল মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বের মূল বৈশিষ্ট্য—তিনি কখনও নিজেকে অপরিহার্য বা অব্যর্থ বলে তুলে ধরতে চাননি। ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির বদলে তিনি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দিয়েছেন, নিজের ব্যক্তিত্বকে কখনও ব্যবস্থার ঊর্ধ্বে রাখেননি।

আরও পড়ুনঃ Train Ticket Price Increase: বাড়াল ভারতীয় রেলের ভাড়া, কবে থেকে কার্যকর নতুন ভাড়া?

তিনি একবার তাঁর কর্মীদের বলেছিলেন, “আমি একটি বড় চেয়ারে বসা একজন ছোট মানুষ।” এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল তাঁর বিশ্বাস—ক্ষমতা কখনও গর্বের বস্তু নয়, এটি একটি দায়িত্ব। তাঁর নেতৃত্বের শক্তি ছিল নীরব, কিন্তু দৃঢ়—চমক নয়, দক্ষতার (MGNREGA to Rebranded Schemes) উপর দাঁড়িয়ে। এর ফলও শুধু নৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল না, অর্থনীতিতেও তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল। তাঁর শাসনকালে ভারতের গড় জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৮ শতাংশ, যা ২০১০-১১ অর্থবর্ষে গিয়ে ১০.০৮ শতাংশে পৌঁছায়।

আরও একটি দিক থেকে তাঁর শাসনকাল মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় ভারত ছিল সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির মধ্যে একটি। সরকার সময়োপযোগী ও পরিমিত পদক্ষেপ (MGNREGA to Rebranded Schemes) নিয়ে অর্থনীতিকে রক্ষা করেছিল, যদিও সেই সাফল্যের জন্য খুব বেশি প্রচার হয়নি। বিপরীতে, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারি ও দীর্ঘ লকডাউনের ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে ভারত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির মধ্যে পড়ে। তবুও, তৎকালীন সরকার ব্যাপক প্রশংসা পায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মনমোহন সিংয়ের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ভাবনা কল্যাণকে অধিকারভিত্তিক কাঠামোর মধ্যে প্রতিষ্ঠা করেছিল—যা ছিল ভারতীয় নীতিনির্ধারণে এক ঐতিহাসিক মোড়। MGNREGA কাজের অধিকার নিশ্চিত করেছিল, শিক্ষা অধিকার আইন শিক্ষার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেয়, আর খাদ্য অধিকার আইন (MGNREGA to Rebranded Schemes) কোটি কোটি মানুষের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

এই উদ্যোগগুলি কোনও নির্বাচনী কৌশল ছিল না, বরং দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত। তাঁর শাসনকালে দারিদ্র্যের হার ৩৭.২ শতাংশ থেকে কমে ২১.৯ শতাংশে নেমে আসে, যা এই নীতিগুলির কার্যকারিতার প্রমাণ। পাশাপাশি, তথ্যের অধিকার আইন (MGNREGA to Rebranded Schemes) চালু করে তিনি গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতাও শক্তিশালী করেছিলেন—যা স্বচ্ছ শাসনের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

এটাও সত্য যে, মনমোহন সিং কখনও কৃতিত্ব নিজের নামে কুক্ষিগত করেননি। বাম দলগুলি বলেছিল MGNREGA তাদের চাপে কার্যকর হয়েছে; নাগরিক সমাজ শিক্ষা অধিকার আইনের কৃতিত্ব দাবি করেছিল; এল.কে. আদবানি বলেছিলেন তথ্যের অধিকার আইনের ভিত্তি তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময়েই তৈরি হয়েছিল; আবার খাদ্য অধিকার আইনকে অনেকেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের (MGNREGA to Rebranded Schemes) ফল বলে মনে করেন। মনমোহন সিং এসব দাবির কোনওটিই অস্বীকার করেননি।

আজকের বহু নেতার মতো শিরোনাম বা তাৎক্ষণিক প্রশংসার পেছনে তিনি দৌড়াননি। তিনি ছিলেন তথ্য, যুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি চিন্তায় বিশ্বাসী এক প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক। স্বল্পমেয়াদি জনপ্রিয়তার মোহ নয়, তাঁর সিদ্ধান্ত (MGNREGA to Rebranded Schemes) গড়ে উঠত একাডেমিক শৃঙ্খলা, পরিসংখ্যান ও ভবিষ্যৎ প্রভাবের গভীর উপলব্ধির উপর। তিনি একবার বলেছিলেন, “ভবিষ্যৎ তাদেরই, যারা তাদের স্বপ্নের সৌন্দর্যে বিশ্বাস করে।” মনমোহন সিং শুধু সেই স্বপ্নে বিশ্বাসই করেননি—ধৈর্যের সঙ্গে তিনি এমন এক ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন, যার উপর দাঁড়িয়ে ভারতের স্বপ্ন এগিয়ে যেতে পারে।