Matua Vote Bank in Focus: মতুয়া সম্মেলনের মঞ্চে বনগাঁয় শুভেন্দু অধিকারি, মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া আক্রমণ

Published on: January 7, 2026

Join WhatsApp

Join Now

বনগাঁয় আজ মতুয়া মহাসম্মেলন (Matua Vote Bank in Focus) ঘিরে উৎসবের আবহ। ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে গোটা বনগাঁ শহর সাজ সাজ রব—রঙিন পতাকা, মাইকের ঘোষণা ও ভক্তদের ভিড়ে মুখরিত এলাকা। প্রতি বছরের মতো এবারও এই মহাসম্মেলন ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি স্পষ্ট রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে।

খবর অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী আজ বনগাঁয় পৌঁছান (Matua Vote Bank in Focus)। তার আগেই সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হন বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক সরকার। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন পঞ্চায়েত ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনের আগে মতুয়া ভোটব্যাংককে আরও সুসংহত করতেই এই সফর।

আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee Turns 71: PM Modi-র শুভেচ্ছা, রাজনীতিতে এক অন্য নজির

মতুয়া সম্প্রদায় উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় বিস্তৃত। নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ভুক্ত এই ধর্মীয় গোষ্ঠীর জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটির কাছাকাছি বলে অনুমান। ফলে লোকসভা ও বিধানসভা—দুই ক্ষেত্রেই তাঁদের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ কেন্দ্রে বিজেপির (Matua Vote Bank in Focus) জয়ের পিছনে মতুয়া ভোটের বড় ভূমিকা ছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। যদিও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ দক্ষিণ আসন তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে যায়।

এদিকে সম্মেলনে উপস্থিত মতুয়া ভক্তদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভও চোখে পড়ে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কার্যকর হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী নাগরিকত্ব না পাওয়া এবং SIR প্রক্রিয়ায় বহু মতুয়ার নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলছেন তাঁরা। এক মতুয়া ভক্তের কথায়, “নাগরিকত্বের আশায় আমরা বিজেপিকে (Matua Vote Bank in Focus) ভোট দিয়েছিলাম। কিন্তু এখনও অনেকের নাম তালিকায় নেই।” তবে সাম্প্রতিককালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মতুয়াদের আশ্বাস দিয়ে গিয়েছেন যে, সিএএ-র নিয়ম শিথিল করে সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক দিক থেকে মতুয়া রাজনীতির জটিল ছবিও উঠে আসছে। ঠাকুরবাড়ির বর্তমান কর্তা ও বনগাঁর তৃণমূল সাংসদ মামতাবালা ঠাকুর এবং তাঁর ছেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর—এই দ্বিধাবিভক্ত অবস্থান মতুয়া রাজনীতিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

এদিন শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের “সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দুর দাবি, যুব কংগ্রেস নেত্রী থাকাকালীন তিনি রাজীব গান্ধীর সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা (Matua Vote Bank in Focus) করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “একক ক্ষমতায় জয়ের যোগ্যতা থাকলে ২০০১ সালেই মুখ্যমন্ত্রী হতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ওপর ভর করেই ১৩ বছর অপেক্ষা করে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসতে হয়েছে।”

নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, “১ লক্ষ ৮ হাজার ভোট পেলেও গত পাঁচ বছরে একবারও নন্দীগ্রামে এসে মানুষের খোঁজ নেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এলাকা বিমুখ।”

সব মিলিয়ে মতুয়া মহাসম্মেলনকে কেন্দ্র করে বনগাঁয় ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তাপও ক্রমশ বাড়ছে। শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি সেই রাজনৈতিক (Matua Vote Bank in Focus) প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।