২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : পুজোর মরসুমে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC) জল ছেড়ে দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজ্যকে আগাম জানানো ছাড়া দুই জলাধার থেকে বড় পরিমাণ জল ছাড়া হয়েছে, যা ‘বাংলাকে বিসর্জন দেওয়ার ষড়যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই বিতর্কের মধ্যেই মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে জল ছাড়ার হার বাড়ানো হয়েছে। সূত্রের খবর, দুই জলাধার থেকে জলছাড়ার পরিমাণ ৬৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার কিউসেক পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মাইথন জলাধার থেকে ৪২,৫০০ কিউসেক এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে ২৭,৫০০ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে।ডিভিসির এক কর্তা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, জানিয়েছেন, “ডিভিসি নিজের ইচ্ছায় জল ছাড়ে না। আমরা বাধ্য হয়েই জল ছাড়ি, এবং রাজ্য ও ঝাড়খণ্ড সরকারকে জানিয়ে ছাড়া হয়”।
গত এক সপ্তাহ ধরে ঝাড়খণ্ডে টানা বৃষ্টি, পশ্চিম বর্ধমানেও অব্যাহত বর্ষণের ফলে দামোদর তীরবর্তী এলাকায় জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ, সর্বত্রই হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ইতিমধ্যেই আসানসোল ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে টানা বৃষ্টি হয়েছে, যা দামোদর নদীতে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে দুর্গাপুরের রাজ্য সেচ দফতরের জলাধারের ধরন ক্ষমতাও ছাড়িয়েছে।ডিভিসি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, বিশেষ করে বর্ধমান, হাওড়া এবং হুগলি জেলায় দামোদর তীরবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিভিসি-কে তোপ দাগেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “আনন্দ, উল্লাস ও নতুন আশার সময়ে, মানুষকে শান্তিতে উৎসব শেষ করতে দেওয়ার পরিবর্তে, ডিভিসি পূর্বে জানানো ছাড়া জল ছেড়েছে।”ডিভিসির পূর্ববর্তী পদক্ষেপের মতো, জুন-জুলাই মাসেও হাজার হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছিল। সেই সময়ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান ও হুগলির মতো জেলায়। রাজ্যের দুই প্রতিনিধি সম্প্রতি ডিভিসির জলাধার নিয়ন্ত্রণ কমিটি (DVRRC) থেকে পদত্যাগ করেছেন।মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলনেতা ও স্থানীয় প্রশাসনকে ডিভিসি-র জলছাড়া মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
