২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : আবারও সক্রিয় হল বর্ষা। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূল ঘেঁষে পশ্চিম-মধ্য এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হয়েছে একটি নতুন নিম্নচাপ অঞ্চল। এর সঙ্গে রয়েছে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে। আগামী দু’দিনে সেটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।যদিও এই নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের উপর পড়ছে না, তবুও এর পরোক্ষ প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, অন্তত আগামী তিন দিন কলকাতাসহ একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।
কোথাও কোথাও ঝোড়ো হাওয়া বইতেও দেখা যাবে, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং মুর্শিদাবাদে রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় বুধবার পর্যন্ত সতর্কতা জারি হয়েছে। ঝাড়গ্রামে সোমবার ও মঙ্গলবার, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে রবিবার জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা। সেখানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলায় বুধবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। কালিম্পঙে সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কোচবিহার জেলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।উত্তরবঙ্গের দক্ষিণের জেলাগুলির মধ্যে উত্তর দিনাজপুরে সোমবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহ জেলায় আপাতত ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা নেই।মৌসুমি অক্ষরেখা এখনও সক্রিয় রয়েছে। তা রোহতক, রাজনন্দগাঁও হয়ে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়াও, উত্তর-পশ্চিম ঝাড়খণ্ড এবং সংলগ্ন বিহারের উপর আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ০.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে। সব মিলিয়ে একাধিক আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি মিলেই রাজ্যজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।আবহবিদরা বলছেন, দক্ষিণবঙ্গে যদিও সরাসরি প্রভাব নেই, তবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে। আর উত্তরবঙ্গে ভারী বর্ষণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
