২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর সেই সফর ঘিরে চা-বাগান শ্রমিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। বহুদিনের দাবির পর অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে জমির পাট্টা পাচ্ছেন চা শ্রমিকরা। শ্রমিকদের আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভরতার পথে এটিকে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন অনেকে।আজ মঙ্গলবার বিকেলে বাগডোগরা হয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামীকাল, ১০ই সেপ্টেম্বর তাঁর কর্মসূচি ডুয়ার্সে। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি—চা শ্রমিকদের হাতে জমির পাট্টা তুলে দেওয়া। ইতিমধ্যেই মেটেলি ব্লকের শোনগাছি, নাকটি ও বাটাইগোল চা-বাগানে পৃথক সভা করে পাট্টা প্রাপকদের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। শ্রমিক মহলে দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট উচ্ছ্বাস, কারণ মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে জমির অধিকার পেতে চলেছেন তাঁরা। প্রশাসন সূত্রে খবর, মাটিয়ালি ব্লকের আটজন শ্রমিককে সরাসরি মঞ্চে ডেকে জমির পাট্টা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী, বাকিদের হাতেও একই দিনে পৌঁছে দেওয়া হবে।
চা-বাগানের শ্রমিকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হচ্ছে। জমি পাওয়ার ফলে তাঁরা নিজেদের ঘর তৈরি করতে পারবেন, আর অনিশ্চিত অবস্থায় চা-বাগানের জমিতে থাকতে হবে না। এই সিদ্ধান্তে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।মেটেলির সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এবং শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, জমির পাট্টা হাতে পাওয়া মানে শ্রমিকদের আত্মমর্যাদা ও স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা। এটি কেবল জমির কাগজ দেওয়া নয়, বরং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি।মন্ত্রী বুলুচিক বরাইক বলেন, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য এই উদ্যোগ ঐতিহাসিক। বোলপুর, ঝাড়গ্রাম ও বর্ধমানের প্রশাসনিক বৈঠক সেরে এবার উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর আগেই সরকারি পরিষেবা সরাসরি মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ডুয়ার্স সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার।সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতার এই উদ্যোগে চা শ্রমিকদের মুখে হাসি, আর চা-বাগান মহলজুড়ে উৎসবের আবহ।
