Kuldeep Singh Sengar Case: সুপ্রিম কোর্টে ন্যায়, নিরাপত্তার দাবি নির্যাতিতার পরিবারের

Published on: December 29, 2025

Join WhatsApp

Join Now

উন্নাও ধর্ষণ মামলার নির্যাতিতা সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দোষী সাব্যস্ত ও বিজেপি থেকে বহিষ্কৃত প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে (Kuldeep Singh Sengar Case) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া না পর্যন্ত তিনি থামবেন না। দিল্লি হাইকোর্টের সেই নির্দেশ স্থগিত রাখায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন, যে নির্দেশে সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সাময়িকভাবে স্থগিত করে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছিল।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নির্যাতিতা বলেন, “আমি খুব খুশি। শুরু থেকেই আমার সুপ্রিম কোর্টের (Kuldeep Singh Sengar Case) উপর ভরসা ছিল। আমি বিশ্বাস করতাম, একমাত্র এখান থেকেই আমি ন্যায়বিচার পাব। আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব, যাতে দোষীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।”

আরও পড়ুনঃ H-1B Visa Delays Disrupt Plans of Thousands: এইচ-১বি ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব! যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উদ্বেগ জানাল ভারত

এই রায়ের পর নির্যাতিতার মা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে পরিবার এবং আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি জানান। তিনি বলেন, “এই মামলা শুরুর পর থেকেই আমরা ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। আমার পরিবার, আমার মেয়ে এবং যাঁরা আমাদের হয়ে মামলা লড়ছেন (Kuldeep Singh Sengar Case)—সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সরকার যেন আমাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করে।”

২০১৭ সালের উন্নাও ধর্ষণ মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট সম্প্রতি কুলদীপ সেঙ্গারের (Kuldeep Singh Sengar Case) যাবজ্জীবন সাজা স্থগিত রেখে জামিন মঞ্জুর করেছিল। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সেই আবেদন শুনে সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি হাইকোর্টের ২৩ ডিসেম্বরের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়।

PTI-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় নির্যাতিতা বলেন,“আমি শুরু থেকেই ন্যায়ের জন্য লড়াই করছি। কোনও চাপ বা ভয় আমাকে দমাতে পারেনি। আজ সুপ্রিম কোর্ট আমাকে ন্যায় দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনও আদালতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছি না। বিচারব্যবস্থার উপর আমার আস্থা আছে। কিন্তু সত্যিটা হলো, সুপ্রিম কোর্টই (Kuldeep Singh Sengar Case) আমার শেষ ভরসা ছিল, এবং তারাই আমাকে ন্যায়বিচার দিয়েছে।”

রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নির্যাতিতার মা বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট আমাদের সঙ্গে ন্যায় করেছে। আমি বারবার বলেছি, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের (Kuldeep Singh Sengar Case) উপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে। কিন্তু দিল্লি হাইকোর্টের দুই বিচারপতির সিদ্ধান্ত আমাদের প্রতি অন্যায় ছিল। সেই রায় আমার হাইকোর্টের উপর আস্থা ভেঙে দিয়েছিল।”

উল্লেখ্য, দিল্লি হাইকোর্ট আপিল (Kuldeep Singh Sengar Case) বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড স্থগিত করে তাঁকে জামিন দেয়। এই ঘটনায় নতুন করে দেশজুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং নারীর নিরাপত্তা, ক্ষমতাবানদের দায়বদ্ধতা ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর প্রশ্নে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ তাদের নির্দেশে জানায়, “সাধারণত কোনও দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি বা অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়ার আদেশে এই আদালত হস্তক্ষেপ করে না। কিন্তু এই মামলায় (Kuldeep Singh Sengar Case) বিশেষ পরিস্থিতি রয়েছে। অভিযুক্ত অন্য একটি গুরুতর অপরাধেও দোষী সাব্যস্ত। সেই কারণেই দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত রাখা হলো। ফলে অভিযুক্ত ওই নির্দেশ অনুযায়ী মুক্তি পাবেন না।”

২০১৯ সালে দিল্লির একটি বিশেষ আদালত ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং পকসো আইনের বিভিন্ন ধারায় কুলদীপ সেঙ্গারকে (Kuldeep Singh Sengar Case) দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাঁকে তাঁর স্বাভাবিক জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কারাদণ্ডের সাজা দেয়। এই রায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

ঘটনার সময় নির্যাতিতা নাবালিকা ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১১ থেকে ২০ জুনের মধ্যে তাঁকে অপহরণ করে ধারাবাহিকভাবে (Kuldeep Singh Sengar Case) যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে তাঁকে পাচার করে বিক্রি করে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁকে মাখি থানার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

এই মামলাটি কেবল একটি অপরাধের বিচার নয়, বরং দেশের বিচারব্যবস্থা, নারীর নিরাপত্তা এবং ক্ষমতাসীনদের দায়বদ্ধতার এক বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের লড়াই আজও সেই ন্যায়ের সন্ধানেই অব্যাহত।