২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক :অনুপ্রবেশ ইস্যু ঘিরে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর অভিযোগ, “ভারতের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। অনুপ্রবেশকারীরা দেশের জনবিন্যাস বদলে দিচ্ছে। যদি সীমান্তরক্ষার দায়িত্বে কেউ না থাকে, শয়ে শয়ে, লাখে লাখে মানুষ এদেশে ঢুকে পড়ে, আমাদের মা–বোনদের ওপর চোখ দেয়, আমাদের জমি কেড়ে নেয়, তাহলে প্রথমেই অমিত শাহের মাথা কেটে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে রাখা উচিত।”
মহুয়ার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি অভিযোগ তুলেছে, এ বক্তব্য দেশবিরোধী ও চরম উসকানিমূলক। বিজেপি মুখপাত্র শতুরুপা মহুয়ার শিক্ষা ও রাজনৈতিক চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিজেপির দাবি, “তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে, প্রশ্রয় দিচ্ছে। বিজেপি কর্মীদের খুন করে তাদের মুণ্ডু কেড়ে নিয়েছে তৃণমূল, এখন আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাথা দাবি করছে মহুয়া।”
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মহুয়া মৈত্র যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে মনে হয় না তিনি কোনও গণতান্ত্রিক দলের প্রতিনিধি। তৃণমূল ও তাদের সাংসদরা হিংসাত্মক ও অগণতান্ত্রিক চিন্তাধারায় বিশ্বাস করে। এ যেন কোনও উগ্রপন্থী সংগঠনের ভাষণ।”শুধু বিজেপিই নয়, আইনজীবী আফজাল আলিও মহুয়ার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন— “তুমি আজ পর্যন্ত একটা গরু, একটা ছাগল, একটা বাদর, এমনকি একটা আরশোলা মেরেছ? তুমি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাথা কাটবে?” পাশাপাশি তিনি মহুয়া মৈত্রর অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও কটাক্ষ করেন।
এই বিতর্ক ঘিরে তীব্র আলোড়ন ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। নদিয়ার কোতয়ালি থানায় ইতিমধ্যেই মহুয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে বিজেপি। পাশাপাশি অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে গেরুয়া শিবির প্রশ্ন উঠছে—একজন সাংসদ কীভাবে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর *‘মাথা কেটে নেওয়া’*র মতো বক্তব্য রাখতে পারেন? তৃণমূল সাংসদের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ঝড়।
