২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সোমবার শেষ ২১ জুলাই পালন করছে তৃণমূল। সভার প্রধান বক্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দেন। এই সভা থেকেই বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সুর বেঁধে দিতে চলেছে তৃণমূল। সভাস্থলে প্রবেশের সময় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন তিনি। নতজানু হয়ে প্রণাম জানান শহিদদের।
২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, ‘‘বিজেপিকে প্রথম বাংলাবিরোধী আমরা বলেছি। আমরা জনতার গর্জনের ডাক দিয়েছিলাম। শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়। সেটাই বিজেপির আসল চরিত্র। বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে তাচ্ছিল্য করে, ময়দানে জিততে না পেরে নির্লজ্জের মতো গরিব মানুষকে মারার পরিকল্পনা করে। টাকা আটকে রাখে। ওদের একটাই পরিচয়, বাংলাবিরোধী।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘আমরা মেরুদণ্ড বিক্রি করব না। গলা কেটে দিলেও ‘জয় বাংলা’ বেরোবে। এক দিকে ইডিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এক দিকে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দিচ্ছে। দু’টি ই-কে কাজে লাগাচ্ছে। কেউ ভয় পাবেন না।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘বাংলার মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যেতে চায়। বিজেপিকে আমরা ছাব্বিশের পর ওই ক্যাম্পে নিয়ে যাব। বিজেপিকে কোনও জায়গা ছাড়া চলবে না।’’
ভাষণের শেষে দিল্লি কাঁপানোর ডাক দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাস্থলে উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে তিনি চিৎকার করে ‘জয় বাংলা’ বলার আহ্বান জানান। এমন আওয়াজ তোলার বার্তা দেন, যাতে দিল্লিতেও কম্পন অনুভূত হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বঙ্গসফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে একবারের জন্যও শোনা যায়নি রামনাম। উলটে কালী-দুর্গাকে স্মরণ করে সভা শুরু করেছিলেন তিনি। তা নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল। একুশের মঞ্চ থেকে সেই ইস্যুতেই বিজেপিকে একহাত নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন, “আগে জয় শ্রীরাম বলত, এখন বলছে জয় মা দুর্গা-জয় মা কালী বলছে। ছাব্বিশের পর জয় বাংলা বলিয়ে ছাড়ব।” অভিষেক আরও বলেন, ‘‘আমরা বাংলায় কথা বলি। ১০০ বার বলব। গর্ব করে বলব। ২০২৬ সালের পর পদ্মফুল উপড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি দিলেন অভিষেক।