ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে (Jharkhand T-20)নতুন ইতিহাস রচনা করল ঝাড়খণ্ড। ইশান কিশান, অনুকুল রায় ও সুশান্ত মিশ্রর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রথমবারের মতো সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি জয় করল দলটি। বৃহস্পতিবার পুনেতে ফাইনালে হরিয়ানাকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে ঝাড়খণ্ড। এই জয়ের মাধ্যমে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি জেতা দলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২টি। বারোদা, গুজরাত, কর্ণাটক ও মুম্বই দু’বার করে ট্রফি জিতলেও, তামিলনাড়ু জিতেছে সর্বাধিক তিনবার। ঝাড়খণ্ডের কাছে এই ফাইনাল ছিল প্রতিযোগিতার ইতিহাসে তাদের প্রথম ফাইনাল উপস্থিতি। এর আগে একমাত্র সিনিয়র ঘরোয়া শিরোপা হিসেবে ২০১০-১১ মরসুমে তারা জিতেছিল বিজয় হাজারে ট্রফি।
আরও পড়ুন-India vs South Africa : কুয়াশায় ভেস্তে গেল লখনউ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ!
ফাইনালে রানের বন্যা-
নতুন বিশ্বরেকর্ড (Jharkhand T-20 ) হরিয়ানার বিরুদ্ধে ফাইনালে ঝাড়খণ্ড তোলে ৩ উইকেটে ২৬২ রান, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে যে কোনও ফাইনালের সর্বোচ্চ দলগত রান। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ২০২৪ সালে রোমানিয়ার বিরুদ্ধে ইতালির ২৪৪/৪ রানের। এটি টি-টোয়েন্টি প্লে-অফ বা নকআউট ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরও। শুধুমাত্র ২০২২ টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের কোয়ার্টার ফাইনালে ডার্বিশায়ারের বিরুদ্ধে সমারসেটের ২৬৫/৫ রান এর চেয়ে বেশি।
এই ২৬২ রান ঝাড়খণ্ডের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলগত স্কোর। গোটা টুর্নামেন্টে তারা পাঁচবার ২০০-র বেশি রান করেছে, একটি সংস্করণে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পঞ্জাব (৭ বার)। উল্লেখযোগ্যভাবে, ঝাড়খণ্ডের একটি ২০০-র অধিক রান ছিল টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সফলতম সর্বোচ্চ রান তাড়া।
ইশান কিশানের বিধ্বংসী শতরান-
ফাইনালে মাত্র ৪৫ বলে শতরান (Jharkhand T-20) করেন ইশান কিশান। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির ফাইনালে শতরান করা ব্যাটার হিসেবে তিনি দ্বিতীয়, এর আগে ২০২৩-২৪ মরসুমে পঞ্জাবের হয়ে ১১৩ রান করেছিলেন অনমোলপ্রীত সিং। টি-টোয়েন্টি ফাইনালে এটি তৃতীয় দ্রুততম শতরান। শুধুমাত্র বিগ ব্যাশ লিগ ২০২৪-২৫ ফাইনালে মিচেল ওউয়েনের ৩৯ বলের শতরান এবং ২০২৫ বুদাপেস্ট কাপে রোমানিয়ার বিরুদ্ধে করণবীর সিংয়ের ৪৪ বলের শতরান এর চেয়ে দ্রুত। এই টুর্নামেন্টে কিশানের মোট শতরান দাঁড়াল পাঁচটি, যা সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে যৌথভাবে সর্বাধিক (অভিষেক শর্মার সঙ্গে)। পাঁচটি শতরানই তিনি করেছেন উইকেটকিপার হিসেবে-এই তালিকায় কেবল কুইন্টন ডি কক (৭টি) এগিয়ে। পাঁচটির মধ্যে চারবার তিনি ছিলেন অধিনায়ক, যা এক অনন্য কীর্তি। টুর্নামেন্টে কিশান করেন ৫১৭ রান, যা এক সংস্করণে তৃতীয় সর্বোচ্চ। তাঁর আগে শুধু দেবদত্ত পাডিক্কাল (৫৮০) ও রোহন কদম (৫৩৬)।
ছক্কার ঝড়-
ফাইনালে দুই দল মিলিয়ে ওঠে ৪৫৫ রান, টি-টোয়েন্টি প্লে-অফ বা নকআউট ম্যাচে সর্বোচ্চ সম্মিলিত স্কোর। আগের রেকর্ড ছিল ৪৪৫ রান। ম্যাচে মোট ৩৩টি ছক্কা -ঝাড়খণ্ড ২০টি, হরিয়ানা ১৩টি এটিও নতুন রেকর্ড। পুরো টুর্নামেন্টে (Jharkhand T-20) মোট ২০টি শতরান হয়েছে, যা যে কোনও টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে সর্বাধিক। পাশাপাশি ১৮৮৪টি ছক্কা, এটিও বিশ্বরেকর্ড। গড় রান রেট ছিল ৮.৫৯, যা সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির ইতিহাসে দ্রুততম স্কোরিং সংস্করণ।
সুশান্ত-অনুকুলের অলরাউন্ড নৈপুণ্য-
ঝাড়খণ্ডের পেসার সুশান্ত মিশ্র নেন ২২টি উইকেট, যা একটি সংস্করণে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে অলরাউন্ডার অনুকুল রায় করেন ৩০৩ রান ও নেন ১৮টি উইকেট, সঙ্গে নেন ৯টি ক্যাচ। টি-টোয়েন্টি (Jharkhand T-20) টুর্নামেন্টে এই তিন কীর্তি একসঙ্গে এর আগে মাত্র তিনজন করতে পেরেছেন। তিনি সাতটি ম্যাচে ২৫ এর বেশি রান ও সাতটি ম্যাচে একাধিক উইকেট নেওয়ার বিরল ডাবলও সম্পূর্ণ করেন। সব মিলিয়ে, ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে সম্পূর্ণ আধিপত্য দেখিয়ে ঝাড়খণ্ড লিখল এক নতুন স্বর্ণালী অধ্যায়।
