ইরানে চলমান ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ (Iran Protests Turn Deadly) ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২,৫৭১ জনে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। বুধবার (১৪ জানুয়ারি, ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানায়, নিহতদের মধ্যে ২,৪০৩ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪৭ জন সরকার-সমর্থিত ব্যক্তি। এছাড়া ১২ জন শিশু ও ৯ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন, যারা বিক্ষোভে অংশ নেননি বলে জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৮,১০০-এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Stray Dog Massacre in Telangana: ৫০০-র বেশি কুকুরের মৃত্যুর অভিযোগ
এদিকে, ইরানের বিচার বিভাগের (Iran Protests Turn Deadly) প্রধান ঘোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই বিক্ষোভের ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “যদি কেউ মানুষকে পুড়িয়ে দেয় বা শিরচ্ছেদ করে, তবে আমাদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি একটি কারাগার পরিদর্শনের সময় এই মন্তব্য করেন।
এই পরিস্থিতিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের (Iran Protests Turn Deadly) মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘কঠোর পদক্ষেপ’-এর হুমকির পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে।
বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ায় ইরান জাতিসংঘ (Iran Protests Turn Deadly) নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছে। জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার শামিল।
এদিকে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইরানের (Iran Protests Turn Deadly) পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন।
পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষিতে ভারত সরকারও সতর্কতা জারি করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের ইরান ভ্রমণ (Iran Protests Turn Deadly) এড়িয়ে চলার জন্য কঠোরভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ শুরু হয় মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়নকে কেন্দ্র করে, যা ধীরে ধীরে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির শাসনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
