২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : বাংলায় এসএসসি-র দ্বিতীয় দফার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে ফের ভিনরাজ্যের পরীক্ষার্থীদের ঢল। কলকাতা থেকে জেলা— সর্বত্রই ভিড় চোখে পড়ার মতো। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, দিল্লি থেকে প্রচুর প্রার্থী এসেছেন চাকরির আশায়। তাঁদেরই একজন উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদের বাসিন্দা দীনেশকুমার পাল। যাদবপুর বিদ্যাপীঠে পড়েছে তাঁর পরীক্ষার সিট।দীনেশের কণ্ঠে তীব্র ক্ষোভ— “উত্তরপ্রদেশের অবস্থা ভয়াবহ। ২০১৮ সালের পরে আর কোনও নিয়োগ হয়নি। এত বড় রাজ্য, অথচ কয়েক হাজার শূন্য পদেই সীমাবদ্ধ চাকরি। আমরা পিএইচডি করছি, নেট কোয়ালিফাই করছি, অথচ কাজ নেই। ফ্যা ফ্যা করে গোটা দেশে চাকরির জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছি।
”তাঁর বক্তব্য, গোটা দেশ এখন ধর্মের রাজনীতিতে মেতে রয়েছে। অথচ বেকারত্বের ভয়াবহতা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। “৪-৫ হাজার টাকার চাকরি দিয়ে ঢোল পেটানো হচ্ছে। বলছে, অনেক চাকরি হয়েছে। অথচ সত্যিটা একেবারেই উল্টো। শিক্ষিত মানুষ রোজগারের সুযোগ পাচ্ছেন না, উল্টে বেআইনি পথে অনেকে চাকরি জোগাড় করছে।”পরিসংখ্যান বলছে, নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাতেও মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১০ শতাংশ ছিলেন ভিনরাজ্যের।
এবার একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষাতেও সেই ছবি বদলায়নি। রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রবল ভিড় লক্ষ্য করা গেছে বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লির পরীক্ষার্থীদের।দীনেশের কথায়, “যে রাজ্যেই যান, একই ছবি। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। আমরা পড়াশোনা করে বসে আছি, অথচ চাকরি নেই। তাই চাকরির পরীক্ষার খবর পেলেই রাজ্য থেকে রাজ্যে ছুটতে হচ্ছে।”বাংলায় চাকরির পরীক্ষায় যোগ দিয়ে দীনেশের মতো অসংখ্য ভিনরাজ্যের পরীক্ষার্থী একটাই বার্তা দিতে চাইছেন— শিক্ষিত সমাজ আজ বেকারত্বের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে। আর সেই অন্ধকার ভেদ করে আলো দেখতে হলে দরকার সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবসম্মত নিয়োগনীতি।
