২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : উত্তর ভারতের পাহাড়ি রাজ্য উত্তরাখণ্ড ও হিমাচলপ্রদেশ ফের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে। মঙ্গলবার ভোরে উত্তরাখণ্ডের দেহরাদূনের সহস্রধারায় আচমকাই নামল মেঘভাঙা বৃষ্টি। অল্প সময়ের প্রবল বর্ষণে জলের তোড়ে ভেঙে যায় একাধিক বাড়ি। ভেসে গিয়েছে বহু দোকানঘর এবং দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি। এখনও নিখোঁজ অন্তত তিন জন।শুধু উত্তরাখণ্ড নয়, সোমবার গভীর রাতে হিমাচল প্রদেশের মন্ডী জেলার ধরমপুর শহরেও নামে মেঘভাঙা বৃষ্টি। সেখানে খোঁজ নেই অন্তত দু’জনের। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা বহু বাস ভেসে গিয়েছে জলের স্রোতে।
পাশাপাশি তিনটি জাতীয় সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। ছোট-বড় প্রায় ৪৯৩টি রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাদা আর পাথরের স্রোতে ডুবে গেছে অন্তত ১৫টি গাড়ি।দুর্যোগে বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজে নেমেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল (এনডিআরএফ) এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল (এসডিআরএফ)। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম ও শহর থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবুও এখনও ফুঁসছে তমসা নদী।
দেহরাদূনে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকায় প্রশাসন সব স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।উত্তরাখণ্ডের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁরা রাজ্য সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী ধামিও জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।চলতি বর্ষায় বারবার মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং হড়পা বানে বিপর্যস্ত হয়েছে উত্তরাখণ্ড ও হিমাচলের বিস্তীর্ণ এলাকা। হিমাচলে ২০ জুন থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২১৮ জন।
আবহাওয়া দফতরের হিসেব বলছে, এ বছর হিমাচলে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৪,৪৬৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে হিমাচল সরকারের।এমনকি কয়েক সপ্তাহ আগেই, ৫ অগস্ট, উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীতে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে আচমকা ক্ষীরগঙ্গা নদীতে নেমেছিল হড়পা বান। সেদিন সুক্কি, ধরালী-সহ একাধিক গ্রাম প্রায় ধুয়ে মুছে যায়। জলের স্রোতে একের পর এক ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে। সরকারি হিসাবে সেদিন মৃত্যু হয় অন্তত পাঁচ জনের। এখনও অনেকের খোঁজ মেলেনি।বারবার এমন বিপর্যয়ে চিন্তিত পাহাড়ি রাজ্যগুলির বাসিন্দারা। প্রতি বর্ষাতেই বাড়ছে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি। প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে উদ্ধারকাজ চালালেও পাহাড়ি রাজ্যে এই দুর্যোগ যেন থামার নামই নিচ্ছে না।
