২৪আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : স্বাধীনতা দিবসের সকালে লালকেল্লা থেকে দেশের যুবসমাজকে চমকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ থেকেই কার্যকর হল কেন্দ্রের নতুন কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী বিকাশিত ভারত রোজগার যোজনা। দেশের যুবশক্তিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং কর্মসংস্থানের বাজারে নতুন দিশা দেখাতেই এই প্রকল্পের সূচনা বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।এইদিন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বেসরকারি খাতে প্রথম চাকরি পাওয়া ছেলে-মেয়েদের সরকার ১৫,০০০ টাকা করে দেবে। এক লক্ষ কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩.৫ কোটি যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। এর ফলে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে যুবকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
এই স্কিম অনুযায়ী, প্রথমবার চাকরি পাওয়া যুবকদের জন্য সরকার এক মাসের EPF বেতনের সমান ভাতা (সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত) দেবে দুটি কিস্তিতে।প্রথম কিস্তি : টানা ৬ মাস চাকরিতে থাকার পর।দ্বিতীয় কিস্তি : ১২ মাস চাকরিতে থাকার পর।যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে মাসে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতন পাওয়া কর্মচারীরা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন কোম্পানিগুলির জন্যও বাড়তি সুবিধা শুধু চাকরিপ্রার্থীরাই নন, যেসব কোম্পানি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে চাইবে, তাদেরও উৎসাহ দেওয়া হবে। সরকার ঘোষণা করেছে, অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি করলে কোম্পানিগুলিকে দু’বছরের জন্য মাসে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেবে।
উৎপাদনক্ষেত্রে বাড়তি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তৃতীয় ও চতুর্থ বছরেও সেই সহায়তা চালু থাকবে।কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,“আমরা পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কারের জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছি। এবার লক্ষ্য দেশের জিএসটি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। দীপাবলিতে আমি দেশবাসীকে দ্বিগুণ উপহার দিচ্ছি। করের বোঝা কমবে, জিএসটি হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও কমবে।”লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রীর সোজাসাপটা ঘোষণা “দেশের যুবসমাজই আগামী দিনের শক্তি।
তাদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বিকাশিত ভারত রোজগার যোজনা। যুবকদের প্রথম চাকরির জন্য সরকার সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেবে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলিকেও উৎসাহিত করা হবে যাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়। এর ফলে কোটি কোটি যুবক-যুবতীর জীবন বদলাবে।”অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রকল্প কার্যকর হলে দেশের শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষত প্রথমবার চাকরি খোঁজারত যুবসমাজ সরাসরি উপকৃত হবে। অন্যদিকে, কোম্পানিগুলি অতিরিক্ত ভর্তুকি পেলে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রেও আগ্রহী হবে। সব মিলিয়ে, এটি দেশের কর্মসংস্থানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
