২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক: একের পর এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কলকাতা শহরে (Fire in Kolkata)। সেই স্মৃতিই আরও একবার ফিরল শনিবার (১৫ নভেম্বর) ভোরবেলায়। লালবাজারের কাছে এজ়রা স্ট্রিটের একটি গুদামে লাগল ভয়াবহ আগুন। প্রায় ১৬-১৭টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ২০০৮ সালের নন্দরাম মার্কেট বা ২০১৮-র বাগরি মার্কেট— দুই ক্ষেত্রেই যেমন দমকলকে বেআইনি দোকানের কারণে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল, এবারেও ঠিক তেমন দৃশ্যই দেখা গেল। অভিযোগ, আগুন নেভাতে গেলে হকারদের জিনিসপত্র সরানোর কারণে অনেক সময় নষ্ট হয়।
Read More- Fire in Kolkata: সাতসকালে বড়বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঘটনাস্থলে দমকলের ২৫টি ইঞ্জিন
প্রাথমিকভাবে দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে আরও ২০টি ইঞ্জিন যোগ দিলে মোট ২৫টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। যে অংশে এখনও আগুন জ্বলছে, সেখানে আগুন নেভানোর কাজ চলছে। আগুনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেনি দমকল। বিষয়টি ফরেনসিক পরীক্ষার পর স্পষ্ট হবে। হতাহতের কোনও খবর নেই, তবে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বেশ বড়— দাবি ব্যবসায়ীদের।
ঘটোনাস্থলে গিয়ে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, “ব্যবসা করার অধিকার সকলের আছে। কিন্তু তা মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে হলে মানা যাবে না।” বাজারে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
এই এলাকা কলকাতা পুরসভার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড। এলাকার কাউন্সিলর ও কংগ্রেস নেতা সন্তোষ পাঠকের দাবি, সেখানে বেআইনি নির্মাণ হয়েছে এবং ২০২৩ সালেই তিনি চিঠি দিয়ে মেয়রকে বিষয়টি জানান।
মেয়র ফিরহাদ হাকিম অবশ্য এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “বেআইনি নির্মাণ হলে সে সময় কেউ জানান না। কাউন্সিলারের সঙ্গে মাসে দু’বার দেখা হয়, তিনি কোনওদিন এ কথা বলেননি।” পাশাপাশি তারের জঞ্জাল ও বেআইনি নির্মাণ নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকা হবে বলেও জানান তিনি। সেই বৈঠকে সিইএসসি, পুলিশ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনও উপস্থিত থাকবে। বেআইনি নির্মাণ প্রমাণিত হলে তা ভেঙে ফেলা হবে— স্পষ্ট বার্তা মেয়রের।
