weather: “সপ্তমীর দিনও কি ছাতা-বর্ষাতি ছাড়া মিলবে প্রতিমা দর্শনের স্বস্তি ? “

Published on: September 29, 2025

Join WhatsApp

Join Now

২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : ষষ্ঠীর দিন থেকেই কলকাতার রাস্তাঘাট ও মণ্ডপে নেমেছিল মানুষের ঢল। বৃষ্টির দাপটে পুজোর আনন্দ মাটি হবে কি না, সেই চিন্তা সবার মনেই ছিল। কিন্তু আবহাওয়ার অবস্থা যেন ষষ্ঠীর দিনেই স্বস্তি এনে দিল। ছাতা বা বর্ষাতির প্রয়োজন পড়েনি দর্শনার্থীদের। এবার প্রশ্ন—সপ্তমীর দিনেও কি সেই স্বস্তি বজায় থাকবে?আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফে সোমবার জানানো হয়েছে, সপ্তমীর দিনেও কলকাতায় তেমন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে, তবে বড় ধরনের বৃষ্টির আশঙ্কা নেই। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে, কিন্তু সেটি প্রতিমা দর্শনে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে সপ্তমীর দিনও ছাতা বা বর্ষাতি ছাড়া মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সকলে।দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতিও অনেকটাই একই রকম।

অধিকাংশ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে স্থানীয়ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সেখানে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।অষ্টমীর দিন থেকে আবহাওয়ার ছবিতে খানিকটা পরিবর্তন আসতে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলাগুলিতেও অষ্টমীতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহে বজ্রবিদ্যুতসহ বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা রয়েছে সোমবার থেকেই।

এরপর মঙ্গলবার বৃষ্টি বাড়বে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলায়। দশমীর পর উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।এরই মধ্যে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, অষ্টমীর দিন উত্তর আন্দামান সাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। নবমীর দিনে তা নিম্নচাপে রূপ নেবে বলে আশঙ্কা। এর প্রভাবে নবমীতে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হবে। দশমীর দিনও সেই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে, বরং বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে।

বিশেষ করে হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুর জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল।পাশাপাশি সমুদ্রও উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। তাই মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ সংলগ্ন উত্তর ও মধ্য বঙ্গোপসাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।সব মিলিয়ে ষষ্ঠী ও সপ্তমীর দিন দর্শনার্থীদের জন্য আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূল থাকলেও অষ্টমী থেকে দশমী পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলাতে পারে। বিশেষত নবমী ও দশমীতে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পুজোর দিনগুলিতে বৃষ্টি-ঝড়ের সঙ্গে আনন্দ-উৎসব মিলেমিশেই তৈরি করবে এবারের শারদোৎসবের আবহ।