২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : ফের চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় শহর। একবালপুরের বেলোনা নার্সিংহোমে গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন রোগীর পরিবার। অভিযোগ, চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় চিকিৎসকের সহকারী নিজে ইনজেকশন দেন গর্ভবতী মহিলাকে। আর সেই ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই ঘটে বিপর্যয়—মৃত্যু হয় গর্ভস্থ সন্তানের।
পরিবারের দাবি, ওইদিন চিকিৎসক ‘গড় হাজির’ ছিলেন। তাঁর বদলে আরএমও (RMO) পরিচয় দিয়ে অবিনাশ কুমার নামের এক ব্যক্তি প্রথমে রোগিণীকে পরীক্ষা করেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজে প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লেখেন এবং ইনজেকশনও দেন। অভিযোগ, এই ইনজেকশন দেওয়ার পরেই হঠাৎই গর্ভস্থ সন্তানের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে পরীক্ষা করেই জানা যায় শিশুটি আর বেঁচে নেই।অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে কমিশন নার্সিংহোমে তালা ঝোলানোর নির্দেশ দিয়েছে। আপাতত আগামী ৮ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেলোনা নার্সিংহোম বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি হয়েছে।
এই ঘটনায় স্বভাবতই আতঙ্ক ছড়িয়েছে একবালপুর ও আশপাশের এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অনেকদিন ধরেই নার্সিংহোমে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, রোগীদের সঠিকভাবে না দেখা, আরএমও বা সহকারীদের মাধ্যমে প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার মতো একাধিক অভিযোগ উঠছিল। কিন্তু এবার গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সেই আশঙ্কাই যেন বাস্তবে পরিণত হল।পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমিশনেরও সাফ বার্তা, প্রাথমিক তদন্তে যদি চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে নার্সিংহোমের লাইসেন্স বাতিল পর্যন্ত হতে পারে।
