DELHI :পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে সাফল্য, রাজ্যে কামড়ানোর ঘটনা কম সাত গুণ

Published on: September 5, 2025

Join WhatsApp

Join Now

২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : পথকুকুরদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিন কয়েক আগেই তোলপাড় হয়েছিল গোটা দেশ। দিল্লিতে পথকুকুরের কামড়ে এক ছ’বছরের বালিকার মৃত্যুর পরেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা ওঠে। প্রথমে দেশের শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, দিল্লির পথকুকুরদের রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে শেল্টারে রাখতে হবে। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও সেলিব্রিটিরা প্রতিবাদে মুখর হন। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট আগের সিদ্ধান্ত কিছুটা বদলে নতুন করে নির্বীজকরণ, টিকা দেওয়া এবং সংক্রমণ মুক্ত করার নির্দেশ দেয়।মূল সমস্যাটা হলো—পথচারীদের আক্রমণ ও কুকুরে কামড়ানো। এ ক্ষেত্রে বাংলার সাফল্যের দিকেই নজর টেনেছেন বিশেষজ্ঞরা। কলকাতা, হাওড়া এবং বিধাননগর পুর এলাকায় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে নির্বীজকরণ ও দত্তক প্রকল্প চালু হওয়ার পর পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা এই তিন পুর এলাকায় প্রায় সাত ভাগ কমে গিয়েছে।

আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানও সেই সাফল্যের সাক্ষী। ২০২৪ সালে রাজ্যে কুকুরের কামড়ে আহতের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৬ হাজার ৪৮৬ জন। কিন্তু ২০২৫–এর প্রথম সাত মাসে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ১০ হাজার ২৬৪ জনে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে এই হার প্রায় সাত গুণ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বীজকরণ ও দত্তক কার্যক্রমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাতেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।সমীক্ষায় দেখা গেছে, কলকাতা, হাওড়া এবং বিধাননগর এলাকায় পথকুকুরদের সংখ্যা ও দাপট তুলনামূলক বেশি। তাই পাইলট প্রকল্পের জন্য প্রথমে এই তিন পুরসভাকেই বেছে নেওয়া হয়। রাজ্য সরকার প্রাথমিকভাবে এক কোটি টাকা অনুদান দেয়। সেই অর্থে নির্বীজকরণ ও টিকাদান শিবির চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি পথকুকুর দত্তক কর্মসূচিতেও ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই প্রচারে এগিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে কুকুরদের জন্য স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রও তৈরি হচ্ছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায়ও কুকুর কামড়ের ঘটনা ঘটে। তাই রাজ্যজুড়ে এই কর্মসূচি আরও বড় আকারে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে প্রতিটি পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরে নির্বীজকরণ ও দত্তক কার্যক্রম সক্রিয় করতে হবে।গত দু’বছরে রাজ্যে জলাতঙ্কে মৃত্যু হয়েছিল যথাক্রমে ৩৩ ও ৩২ জনের। এ বছরের হিসেব এখনও প্রকাশ হয়নি। তবে ইতিমধ্যেই কামড়ের ঘটনা ও সংক্রমণ কমার ফলে সংখ্যাটা আরও কমবে বলেই প্রশাসনের আশা।