সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার জেরে ভারত-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন নেপালের বীরগঞ্জ (Communal Tension in Birgunj) শহরে কার্ফু জারি করেছে প্রশাসন। ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল মন্তব্যযুক্ত একটি টিকটক ভিডিওকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সোমবার বিকেল থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যা পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বিহার সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এই শহরে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।
আড়ও পড়ুন- Bangladesh Burning : অমানবিকতার আগুনে জ্বলছে বাংলাদেশ
এক সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, টিকটক ভিডিওকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে পার্সা জেলার জেলা প্রশাসন অফিস (DAO) প্রথমে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত কার্ফু জারি করে। পরে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কার্ফুর মেয়াদ প্রথমে দুপুর ১টা এবং পরে আবার মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাড়ানো হয় (Communal Tension in Birgunj)।
বর্তমানে বীরগঞ্জ মহানগর এলাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে কার্ফু কার্যকর রয়েছে (Communal Tension in Birgunj)। এর মধ্যে রয়েছে- বাস পার্ক, নাগওয়া, ইনরওয়া (পূর্ব), সিরসিয়া নদী (পশ্চিম), গান্ধক চৌক (উত্তর) এবং শঙ্করাচার্য গেট (দক্ষিণ)।
কার্ফু চলাকালীন কড়া নির্দেশ প্রশাসনের
কার্ফু নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, নির্ধারিত এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল, জমায়েত, মিছিল, বিক্ষোভ, সভা বা অবরোধ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নির্দেশ অমান্য করলে নিরাপত্তারক্ষীদের ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। তবে জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল, স্বাস্থ্যকর্মী, সংবাদমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকার সংগঠন, কূটনৈতিক মিশন, পর্যটকবাহী যান এবং বিমানের যাত্রীদের গাড়ি প্রয়োজন অনুযায়ী চলাচলের অনুমতি পাবে বলে জানানো হয়েছে (Communal Tension in Birgunj)।
কীভাবে শুরু হলো অশান্তি
রবিবার নেপালের ধনুষা জেলার কামলা পৌরসভা এলাকা থেকে পোস্ট হওয়া একটি ধর্মীয় মন্তব্য সম্বলিত টিকটক ভিডিওকে (Communal Tension in Birgunj) কেন্দ্র করে প্রথম উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, হায়দার আনসারি ও আমানত আনসারি নামে দুই যুবক জনকপুরে ওই ভিডিওটি পোস্ট করেন, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তবে এখানেই থামেনি পরিস্থিতি।
কামলা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। রবিবার থেকেই বীরগঞ্জ (Communal Tension in Birgunj) ও আশপাশের এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, স্লোগান ও মিছিল চলে। প্রাথমিকভাবে ধনুষা ও পার্সা জেলায় শুরু হওয়া এই অশান্তি পরে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং সাম্প্রদায়িক রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং গোটা এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
