ব্লিঙ্কিটের মতো ই-কমার্স ও কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলিকে ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’ (End of the 10 Minute Rush) সংক্রান্ত দাবি সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়া এই প্ল্যাটফর্মগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে ডেলিভারি পার্টনারদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুনঃ Nipah Virus Alert in Bengal: নিপাহ ভাইরাসের সন্দেহে রাজ্যে সতর্কতা, দুই কেস শনাক্ত AIIMS কল্যাণীতে
সরকারি সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়ার চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী জোমাটো, সুইগি, ব্লিঙ্কিট ও জেপ্টো-সহ একাধিক অ্যাগ্রিগেটর সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সূত্র জানায়, বৈঠকের পর ব্লিঙ্কিট তাদের ট্যাগলাইন পরিবর্তন করেছে। আগে যেখানে লেখা ছিল—‘১০ মিনিটে ১০,০০০-র বেশি পণ্য ডেলিভারি’ (End of the 10 Minute Rush), এখন তা বদলে করা হয়েছে—‘৩০,০০০-র বেশি পণ্য আপনার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়’। ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’ প্রতিশ্রুতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র জনবিতর্ক চলছিল। অনেকের মতে, এই প্রতিশ্রুতি ডেলিভারি কর্মীদের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই প্রতিবাদের জেরে সুইগি ও জোমাটো ডেলিভারির ক্ষেত্রে ইনসেনটিভ বাড়ায়। শ্রমিক সংগঠনগুলি হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।
২০২০ সালের সামাজিক সুরক্ষা কোড অনুযায়ী, গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মী-সহ সমস্ত শ্রমিকই সামাজিক সুরক্ষার অধিকারী। চলতি মাসের শুরুতেই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক চারটি শ্রম আইনের খসড়া নিয়ম (End of the 10 Minute Rush) প্রকাশ করেছে, যেখানে গিগ কর্মীদের জন্য ন্যূনতম মজুরি, স্বাস্থ্য, পেশাগত নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো সুবিধার কথা বলা হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই চারটি শ্রম আইন কার্যকর করার লক্ষ্য সরকারের। গিগ কর্মীদের সমস্যা সংসদের ভিতরে ও বাইরে নিয়মিতভাবে তুলে ধরা আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “সত্যমেব জয়তে। আমরা সবাই মিলে জয়ী হয়েছি। ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’ (End of the 10 Minute Rush) ব্র্যান্ডিং সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের সময়োচিত, দৃঢ় এবং মানবিক হস্তক্ষেপের জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, কারণ যখন কোনও ডেলিভারি রাইডারের টি-শার্ট, জ্যাকেট বা ব্যাগে ‘১০ মিনিট’ লেখা থাকে এবং গ্রাহকের স্ক্রিনে টাইমার চলতে থাকে, তখন চাপটা হয় বাস্তব, অবিরাম এবং বিপজ্জনক। এই সিদ্ধান্ত ডেলিভারি রাইডারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি আমাদের রাস্তা ব্যবহার করা সকলের সুরক্ষাও বাড়াবে।”
চাড্ডা আরও বলেন, “গত কয়েক মাসে আমি শত শত ডেলিভারি পার্টনারের (End of the 10 Minute Rush) সঙ্গে কথা বলেছি। অনেকেই অতিরিক্ত কাজ করছেন, কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন এবং অবাস্তব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে গিয়ে নিজেদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেই সমস্ত নাগরিকদের আমি ধন্যবাদ জানাই—আপনারা মানবজীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন। আর প্রতিটি গিগ কর্মীকে বলতে চাই—আপনারা একা নন, আমরা সবাই আপনাদের সঙ্গে আছি।”
