CBFC Controversy: পরাসক্তি ও জননায়গন ইস্যুতে মুখোমুখি রাজনীতি ও সেন্সর বোর্ড

Published on: January 10, 2026

Join WhatsApp

Join Now

চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড (সিবিএফসি) এখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের একটি নতুন ‘অস্ত্র’ হয়ে উঠেছে—এমনই অভিযোগ তুললেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও ডিএমকে সভাপতি এম কে স্টালিন (CBFC Controversy)। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি, ২০২৬) সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং আয়কর দপ্তরের পর এবার সিবিএফসি-ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।

২৫ কাটে ছাড়পত্র ‘পরাসক্তি’ , বিতর্ক তুঙ্গে-

আরও পড়ুনঃ The Raja Saab Review: হরর-কমেডির আড়ালে অপূর্ব সম্ভাবনা

মন্তব্য আসে তাঁর দল-ঘনিষ্ঠ প্রযোজনা সংস্থার ছবি ‘পরাসক্তি’ মুক্তির ঠিক আগেই। শুক্রবারই সিবিএফসি ছবিটিকে মুক্তির ছাড়পত্র দেয়, তবে ২৫টি কাট ও সংশোধনের শর্তে। ছবিটি U/A সার্টিফিকেট পেয়েছে। উল্লেখ্য, ‘পরাসক্তি’ ছবির কাহিনি ১৯৬০-এর দশকে তৎকালীন মাদ্রাজ রাজ্যে সংঘটিত হিন্দি-বিরোধী আন্দোলনকে (CBFC Controversy) কেন্দ্র করে আবর্তিত। কাটের তালিকায় রয়েছে হিন্দি ভাষার উল্লেখ ও প্রয়াত ডিএমকে নেতা সি এন আন্নাদুরাইয়ের সঙ্গে যুক্ত কিছু বিখ্যাত উক্তি।

রেড জায়ান্টের হাতেই ‘পরাসক্তি’-

‘পরাসক্তি’-র ডিস্ট্রিবিউশন রাইটস রয়েছে রেড জায়ান্ট মুভিজ-এর হাতে। এই সংস্থার সিইও ইনবান উদয়নিধি, যিনি উপ-মুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্টালিনের পুত্র এবং মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের নাতি।
এর মধ্যেই একই দিনে চেন্নাই হাইকোর্টে সিবিএফসি ও অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের ছবি ‘জননায়গন’-এর (CBFC Controversy) সেন্সর সার্টিফিকেশন নিয়ে আইনি টানাপোড়েন তৈরি হয়। নির্ধারিত মুক্তির তারিখে (৯ জানুয়ারি) ছবিটি মুক্তি পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

বিজয়ের ‘জননায়গন’ নিয়ে হাইকোর্টে জট-

মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ, প্রধান বিচারপতি মনিন্দ্র মোহন শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি অরুল মুরুগানের বেঞ্চ, একটি একক বিচারপতির নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়। ওই একক বিচারপতি পি টি আশা সিবিএফসি-কে (CBFC Controversy) নির্দেশ দিয়েছিলেন অবিলম্বে ‘জননায়গন’-কে U/A 16+ সার্টিফিকেট দিতে।
সিবিএফসি-র জরুরি আবেদনের ভিত্তিতে ডিভিশন বেঞ্চ এই স্থগিতাদেশ জারি করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারকে মামলার জবাব দেওয়ার যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি।
একক বিচারপতি পি টি আশা তাঁর রায়ে বলেন, পরীক্ষক কমিটির সুপারিশ মেনে ছবি নির্মাতারা প্রয়োজনীয় কাট ও সংশোধন করার পরও ছবিটিকে রিভাইজিং (CBFC Controversy) কমিটি-তে পাঠানো আইনসঙ্গত নয় এবং এখতিয়ার বহির্ভূত। পরীক্ষক কমিটি ইতিমধ্যেই ছবিটিকে নির্দিষ্ট কাটের শর্তে U/A 16+ সার্টিফিকেট দেওয়ার সুপারিশ করেছিল এবং বোর্ড তা মেনেও নিয়েছিল।

‘জননায়গন’ U/A নির্দেশে স্থগিতাদেশ-

‘জননায়গন’ ছবিটি বিজয়ের শেষ চলচ্চিত্র বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এরপর তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোনিবেশ করবেন। ছবির নির্মাতারা অভিযোগ করেন, সমস্ত নির্দেশ মানা সত্ত্বেও সিবিএফসি চূড়ান্ত সার্টিফিকেট দিতে অযথা বিলম্ব করছে।

সিবিএফসি আবেদনে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ-

নথি অনুযায়ী, নির্মাতারা ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ সেন্সরের জন্য আবেদন করেন। ২২ ডিসেম্বর পরীক্ষক কমিটি সহিংসতা, মারামারির দৃশ্য, রক্তাক্ত ভিজ্যুয়াল এবং ধর্মীয় প্রসঙ্গের সংক্ষিপ্ত উল্লেখের কারণে ছবিটিকে U/A 16+ ক্যাটেগরিতে (CBFC Controversy) ছাড়পত্র দেওয়ার সুপারিশ করে। নির্দেশিত কাট ও সংশোধন করে ২৪ ডিসেম্বর সংশোধিত সংস্করণ জমা দেওয়া হয়। ২৯ ডিসেম্বর যাচাইয়ের পর নির্মাতাদের জানানো হয়েছিল যে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।
তবে ৫ জানুয়ারি, ২০২৬-এ নির্মাতারা একটি ইমেল পান, যেখানে জানানো হয় যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপস্থাপন সংক্রান্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ছবিটি রিভাইজিং কমিটিতে পাঠানো হচ্ছে। পরে জানা যায়, ওই অভিযোগটি করেছিলেন পরীক্ষক কমিটিরই এক সদস্য।


নির্মাতাদের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া একবার সম্পূর্ণ হওয়ার পর গোপন অভিযোগের (CBFC Controversy) ভিত্তিতে তা পুনরায় খোলা সেন্সর বিধি অনুযায়ী বৈধ নয়।
এই মামলায় ছবির নির্মাতাদের পক্ষে সওয়াল করেন সিনিয়র আইনজীবী সতীশ পরাশরণ, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী বিজয়ন সুব্রহ্মণ্যম ও শুভাং নায়ার।