২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে প্রকাশ্যে খুনের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খুনের পিছনে ব্যক্তিগত আক্রোশই কাজ করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। নিহত ছাত্র মনোজিৎ যাদব (বয়স আনুমানিক ১৬) এবং অভিযুক্ত রানা সিং একই কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করত। সেখানেই দুজনের পরিচয় এবং পরবর্তীতে সম্পর্কের জটিলতা থেকেই এই ভয়াবহ ঘটনার সূত্রপাত।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রানা সিং তার এক বান্ধবীর সঙ্গে মনোজিতের পরিচয় করায়। সেই পরিচয়ের পর থেকেই মনোজিৎ ওই কিশোরীকে ফোন ও সামনাসামনি বারবার বিরক্ত করতে থাকে। রানা বিষয়টি একেবারেই মেনে নিতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই অশোভন আচরণের জেরে রানা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
ঘটনাস্থল দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশন, শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ। প্রতিদিনের মতোই যাত্রীভর্তি ব্যস্ত স্টেশন। ঠিক তখনই টিকিট কাউন্টারের সামনে দুই স্কুল ছাত্রের মধ্যে শুরু হয় তর্কাতর্কি। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রানা সিং হঠাৎই পকেট থেকে ধারালো অস্ত্র বের করে মনোজিৎ যাদবের বুক লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে।রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মনোজিৎ। আতঙ্কে চিৎকার শুরু হয় স্টেশন চত্বরে। যাত্রীরা রীতিমতো শিউরে ওঠেন দৃশ্য দেখে। ছুটে আসেন আরপিএফ-এর জওয়ানরা এবং দ্রুত আহত ছাত্রকে উদ্ধার করে প্রথমে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু মাঝপথেই মনোজিৎ অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে বরানগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।ঘটনার পর থেকেই দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশন ও আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রকাশ্যে স্কুল পড়ুয়ার এই নির্মম খুনে রীতিমতো স্তম্ভিত সাধারণ মানুষ। যাত্রীদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের ওপরেও।
