২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফের অস্বস্তিকর ঘটনা। রহস্যমৃত্যু ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের। নিমতার বাসিন্দা এই ছাত্রীকে বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ড্রামা ক্লাবের অনুষ্ঠান চলছিল ক্যাম্পাসে। সেই সময়েই পুকুর থেকে উদ্ধার হয় অনামিকার দেহ। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা করা যায়নি। ঘটনার পরই শোকের ছায়া নেমে আসে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে।সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্ত শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, “রাতেই আমরা পুলিশকে জানাই।
ছাত্রীকে উদ্ধার করে কেপিসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। আমরা পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁদের প্রতি সমব্যথী।’’ তবে অনুষ্ঠানের অনুমতি রাত অবধি ছিল কি না, সেই প্রশ্নে তিনি জানান, “নির্ধারিত সময়ের বাইরে অনুষ্ঠান চলেছে কি না, তার খবর এখনও পাইনি। ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন অনুষ্ঠান চলছিল কি না, নিশ্চিত নই।”নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন সহ-উপাচার্য। তাঁর কথায়, “আমাদের ক্যাম্পাস খুব বড়। অনেক নিরাপত্তারক্ষী অবসর নিয়েছেন। ফলে বর্তমানে ঘাটতি রয়েছে। সীমিত সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী দিয়ে নজরদারি চালানো হয়। পেট্রলিং টিম হয়তো ওই সময় সেখানে ছিল না।
”তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ভবিষ্যতে যাতে আর এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনে তিনটি সিসি ক্যামেরা থাকলেও, যে পুকুর থেকে অনামিকার দেহ উদ্ধার হয়েছে, তার দিকে কোনও ক্যামেরা নেই। ফলে কীভাবে ছাত্রী পুকুরে পড়ে গেলেন, তা এখনও অজানা।এদিকে যাদবপুর থানার পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। ছাত্রীর দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল ঘিরে দেওয়া হয়েছে, সেখানে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।শুক্রবার সকালে অনামিকার বাবা থানায় হাজির হন। পরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। যদিও এখনও পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
