২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : বিগত ১৫ বছর ধরে রেল স্টেশনের দাবিতে সরব এলাকার মানুষ। রেলমন্ত্রক থেকে শুরু করে রেল আধিকারিকদের একাধিকবার জানিয়েও মেলেনি সুরাহা। দিনের পর দিন তাই অগত্যা দ্বিগুণ রাস্তা পাড়ি দিয়ে দূরের স্টেশন থেকে ধরতে হচ্ছে ট্রেন। তারই প্রতিবাদে বিক্ষোভে শামিল এলাকার বাসিন্দারা। বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট উত্তর বিধানসভার চাঁপাপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর দেবীপুরের ঘটনা। শিয়ালদহ-হাসনাবাদ শাখার চাঁপাপুকুর ও ভ্যাবলা এই দুই স্টেশন এর মধ্যে দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। ২০১০ সাল থেকেই এই দুই স্টেশনের মধ্যে এক নতুন স্টেশনের দাবি জানিয়ে সরব হন উত্তর দেবীপুর এলাকার মানুষজন। ২০১০ সালে এলাকার মানুষের এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসে পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা চন্দন বিশ্বাস প্রথম রেল মন্ত্রকে বিষয়টি নিয়ে লিখিত জানান। পাশাপাশি পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার ও শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএমকেও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেন।
পরবর্তীতে উত্তর দেবীপুরে এই স্টেশন নিয়ে সংসদেও সরব হন বসিরহাট লোকসভার তৎকালীন সাংসদ ইদ্রিস আলী ও নুসরাত জাহান। এলাকার মানুষরাও একাধিকবার রেল মন্ত্রক থেকে শুরু করে রেলের বিভিন্ন দপ্তরে নতুন রেল স্টেশনের দাবি নিয়ে একাধিকবার লিখিত ভাবে জানান। অন্যদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একটি গণস্বাক্ষর করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে পাঠানো হয়। এমনকি উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম আব্দুল্লাহ্ রনি পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার ও শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএমকে লিখিতভাবে জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রেল দপ্তরের পক্ষ থেকে ২০১৪ সালে প্রথম পর্যবেক্ষণে আসেন রেল আধিকারিকরা। তারপর সেখানেই থমকে যায় কাজ। পরবর্তীতে ২০২২ সালে সংসদে নুসরাত জাহান এই বিষয়টি উত্থাপন করলে ২০২৪ সালে পুনরায় রেলের তরফে পর্যবেক্ষণ করা হয় ওই এলাকায়। কিন্তু তারপর থেকে আবার কাজ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় হতাশ হন এলাকার মানুষ থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রীরা। তবে বিষয়টি নিয়ে আরটিআই করলে রেলের তরফে জানানো হয়, ওই স্টেশনটি নিয়ে এখনো পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষ হয়নি। শিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে এখনো ওখানে পরীক্ষার কাজ চলছে। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “এই স্টেশন পেতে আমরা একাধিকবার রেল মন্ত্রক সহ রেল দপ্তরকে একাধিকবার জানিয়েছি।
পাশাপাশি অনেকবার বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই সুরাহা মেলেনি। আমরা চাইছি দ্রুত প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সরব হয়ে এখানে যেন একটি নতুন স্টেশন গড়ে তোলে।” অপর এক নিত্যযাত্রী বলেন, “ট্রেন ধরতে গেলে আমাদের বহু পথ ঘুরে চাঁপাপুকুর আবার কখনো ভ্যাবলা স্টেশনে যেতে হয়। যা একদিকে যেমন সময় সাপেক্ষ পাশাপাশি ব্যয় সাপেক্ষও বটে। তাই এখানে দ্রুত নতুন স্টেশনে হওয়া প্রয়োজন।” এই উত্তর দেবীপুর এলাকায় স্টেশন হলে উপকৃত হবেন চাঁপাপুকুর, খোলাপোতা ও পিফা সহ সুন্দরবনের ভেবিয়া ও মুরারিশাহ্ গ্রাম পঞ্চায়েতের হাজার হাজার মানুষ। পাশাপাশি শহর বসিরহাটের ১৩, ১৪,১৫ ও ১৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও সহজেই এই স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে নিজের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। এই বিস্তীর্ণ এলাকার নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে রোগীরা সহজেই কলকাতায় পাড়ি দিতে পারবেন। কাছেই রয়েছে বসিরহাট কলেজ সেখানকার ছাত্র-ছাত্রীরা সহজে ওই স্টেশন ব্যবহার করে কলেজ থেকে বাড়ি আবার বাড়ি থেকে কলেজে যাতায়াত করতে পারবেন। তাই এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন যাতে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়।
