বাংলাদেশে আবারও চরম অশান্তির ছবি। ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির (Bangladesh on Edge) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাত থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতা। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
শরিফ ওসমান হাদি (Bangladesh on Edge) ছিলেন গত বছরের সেই গণআন্দোলনের অন্যতম মুখ, যার জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সম্প্রতি তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে ফেরেন এবং ঢাকায় নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। কিন্তু সেই প্রচার পর্বেই ভয়াবহ হামলার শিকার হন হাদি। গত শুক্রবার রাজধানীতে প্রচারের সময় মুখোশধারী আততায়ীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর জখম হন তিনি। প্রথমে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে টানা ছয় দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুনঃ India vs South Africa : কুয়াশায় ভেস্তে গেল লখনউ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ!
হাদির মৃত্যুর খবর (Bangladesh on Edge) ছড়িয়ে পড়তেই রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে জনতা। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে হাদির নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেশের দুই প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম—‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। অফিস ভাঙচুরের পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাংবাদিক ও কর্মীদের মধ্যে। শুক্রবার ফের ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর দফতরে হামলার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাজনিত কারণে দুই সংবাদমাধ্যমই শুক্রবারের মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত ঢাকার একাধিক এলাকা ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। কোথাও কোথাও যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন আশঙ্কা করছে, অশান্তি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এদিকে, হাদির মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনুস এক বিবৃতিতে বলেন, “শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু (Bangladesh on Edge) দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।” তিনি এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস দেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
হাদির মৃত্যু (Bangladesh on Edge) এবং তার পরবর্তী সহিংসতায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে এই অস্থিরতা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলাকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
