AFRICA : আফ্রিকা ভেঙে তৈরি হবে নতুন মহাসাগর!

Published on: September 13, 2025

Join WhatsApp

Join Now

২৪ আওয়ার্স টিভি ডেস্ক : ভূগর্ভের ‘হৃৎস্পন্দন’ ঘিরে বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা আফ্রিকা মহাদেশের নিচে চলছে ভূতাত্ত্বিক অস্থিরতা। ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে মাটির গভীরে ধুকপুক করছে লাভা— যেন এক ‘ভূতাত্ত্বিক হৃৎস্পন্দন’। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, কোটি কোটি বছর ধরে চলতে থাকা এই প্রক্রিয়াই ভবিষ্যতে আফ্রিকা মহাদেশকে খণ্ডিত করতে পারে। তার মাঝখানেই জন্ম নিতে পারে এক নতুন মহাসাগর।আফার অঞ্চলটি পৃথিবীর একটি বিশেষ ভূতাত্ত্বিক গঠন। এখানে মিলেছে তিনটি টেকটনিক পাত— লোহিত সাগর পাত, এডেন উপসাগর পাত ও মূল ইথিওপিয়ান পাত। একে বলা হয় ‘ত্রিপল জাংশন’।এই অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হয়।ভূগর্ভের ম্যান্টেল স্তরে গলিত লাভা উপরের শিলাস্তরে ধাক্কা দিয়ে ফাটল তৈরি করে। সেই ফাটল দিয়েই বারবার বেরোচ্ছে লাভা।
ক্রমাগত লাভার চাপের ফলে সোমালি পাত ধীরে ধীরে নুবিয়ান পাত থেকে আলাদা হবে।ফাটল ও গভীর উপত্যকায় জমা হবে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের জল।কয়েক কোটি বছর পরে তৈরি হবে এক নতুন মহাসাগর।আফ্রিকার ‘শিং’ মূল মহাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।উগান্ডা, রাওয়ান্ডা ও কঙ্গো— যেসব দেশ এখন সমুদ্র থেকে অনেক দূরে, ভবিষ্যতে তারা হয়ে উঠবে সমুদ্রতীরবর্তী দেশ।বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ঠিক এ ভাবেই কোটি কোটি বছর আগে আফ্রিকা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল এবং জন্ম নিয়েছিল আটলান্টিক মহাসাগর।লাভা উদ্গিরণের সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও সালফার-ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে।এর প্রভাব পড়বে পৃথিবীর জলবায়ুতে।বহু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।এই পরিবর্তন আগামী এক-আধ বছরে নয়— লাগবে কয়েক কোটি বছর। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভূতাত্ত্বিক এই ‘হৃৎস্পন্দন’ নতুন সমুদ্রখাতের জন্ম দেবে, ভেঙে দেবে আস্ত এক মহাদেশ।